দলীয় সূত্রের দাবি, এই প্রচারের লক্ষ্য ভয় দেখানো নয়, বরং সচেতনতা বাড়ানো।

ভাইরাল ভিডিওর অংশবিশেষ।
শেষ আপডেট: 12 November 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'যদি ওরা আসে?' চারটি ছোট শব্দ। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে এই কয়েকটি শব্দই যেন ঢেউ তুলেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বুধবার তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স (Twitter) হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে যে তীব্র বার্তা ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।
পোস্টটিতে লেখা—
“They will come for your IDENTITY.
They will come for your PEACE.
They will come for your DIGNITY.
They will come for your HUMANITY.”
এআই নির্মিত ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিও-র শেষে তৃণমূলের বার্তা— “This is just the TRAILER. The full movie is DICTATORSHIP.” অর্থাৎ, তৃণমূলের অভিযোগ— বিজেপি যদি ফের ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের নাগরিকদের পরিচয়, মর্যাদা, শান্তি এবং মানবিকতা— সবই নাকি প্রশ্নের মুখে পড়বে। তৃণমূলের ভাষায়, দেশের গণতন্ত্রের ওপর নেমে আসবে ‘স্বৈরশাসন'।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই প্রচারের লক্ষ্য ভয় দেখানো নয়, বরং সচেতনতা বাড়ানো। এক তৃণমূল নেতা বলেন, “আমরা নাগরিকদের মনে করিয়ে দিতে চাই, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এখনই শুরু করতে হবে। যারা ভুয়ো দেশপ্রেম দেখিয়ে সংবিধানকে দুর্বল করছে, তাদের আসল মুখ মানুষ জানুক।”
𝙒𝙝𝙖𝙩 𝙞𝙛 𝙩𝙝𝙚𝙮 𝙘𝙤𝙢𝙚?
⚠️ They will come for your IDENTITY.
⚠️ They will come for your PEACE.
⚠️ They will come for your DIGNITY.
⚠️ They will come for your HUMANITY.
Every conscientious Bengali today lives with this haunting question: 𝙒𝙝𝙖𝙩 𝙞𝙛 𝙩𝙝𝙚𝙮 𝙘𝙤𝙢𝙚?… pic.twitter.com/FPUiVQvnNY— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) November 11, 2025
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পোস্ট নিছক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা নয়— এটি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশলগত রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি। এক বিশ্লেষকের মন্তব্য, “তৃণমূল বোঝাতে চাইছে, বিজেপি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দল নয়, বরং তাদের শাসন মানে নাগরিক স্বাধীনতার সঙ্কট। এই বার্তা দিয়ে তারা ভোটারদের আবেগকে ছুঁতে চাইছে।”
তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলেনি। তবে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই শুরু হয়েছে তরজা— কীভাবে এই প্রচারের জবাব দেওয়া হবে। বিজেপি শিবিরের এক নেতা বলেন, “ভয় দেখিয়ে ভোট পাওয়া যায় না। মানুষ উন্নয়ন চায়, নাটক নয়।”
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘এসআইআর’ নিয়ে ইতিমধ্যেই তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের মতো বিজেপি নেতারা বারবার দাবি করেছেন, “বাংলায় অন্তত এক কোটি ভুয়ো ভোটার আছে, যার সুবিধা নিচ্ছে তৃণমূল।” পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, “বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলেমিশে ‘পিছনের দরজা দিয়ে’ রাজ্য দখলের ষড়যন্ত্র করছে।”
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ফের চেনা ছন্দে রাজ্য রাজনীতি— অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, আশঙ্কা ও আবেগের টানাপোড়েনে জমে উঠছে ময়দান।