ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। এসআইএর-এর উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব। তারই মধ্যে এদিন ঢুকে পড়েছেন জহরবাবুও। তাঁর কথা, কিছুটা হলেও বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাবে বলে অনেকে মনে করছেন।
.jpeg.webp)
জহর সরকার।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তখন ভুয়ো ভোটার নিয়ে বড় দাবি করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার (Jawhar Sircar)। জহরবাবু অতীতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ছিলেন। সেদিক থেকে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্ব অবশ্য রয়েছে।
জহর সরকারের কথায়, ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪.৫৮ কোটি। ০.৮৩ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধিতে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি হলে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা সর্বাধিক ৬ কোটি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তালিকায় ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭.৬৪ কোটি, যা পরিসংখ্যানের দিক থেকে অস্বাভাবিক বলেই দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, “৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভোটার ভুয়ো বা মৃত হতে পারেন (SIR, 1 crore voters in Bengal are either dead or fake,)”
আরজি কর আন্দোলনের সময়ে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া জহর সরকার অতীতে দুঁদে আমলা বলে পরিচিত। তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোট পরিচালনা করেছিলেন। ফলে তাঁর এই দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার ইন্ধন জুগিয়েছে।
"Cut my throat but don't delete genuine voters' name" says Mamata Banerjee to poll panel.
Yes.
No GENUINE Voter's name should be deleted.
But at 0.83% compounded statistical rate of population growth, the 2002 voters list of 4.58 crores can go up to maximum 6 crores, not 7.64…— Jawhar Sircar (@jawharsircar) November 11, 2025
শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যের মতো বিজেপি নেতারা বরাবর দাবি করে এসেছেন, বাংলায় ১ থেকে সওয়া কোটি ভুয়ো ভোটার রয়েছে—যার সুবিধা পায় শাসকদল। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে আসন্ন ভোটে ‘পিছনের দরজা দিয়ে’ রাজ্য দখলের পরিকল্পনা করছে।
তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “আমরা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধী নই। কিন্তু যে হারে তাড়াহুড়ো করে আড়াই-তিন বছরের কাজ মাত্র দু’মাসে সেরে ফেলতে চাইছে কমিশন, তাতে ভুলভ্রান্তি হবেই।”
ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। এসআইএর-এর উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব। তারই মধ্যে এদিন ঢুকে পড়েছেন জহরবাবুও। তাঁর কথা, কিছুটা হলেও বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাবে বলে অনেকে মনে করছেন।