এই ‘ঢ্যাঁড়া’ই যেন গ্রামের পুরনো পত্রিকা। আর সেই ঐতিহ্যকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন আশি ছুঁইছুঁই তরণী কালিন্দী।

তরণী কালিন্দী।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের দুনিয়ায় (Social Media) এখন সব খবর, সব বার্তা মুহূর্তে পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে। কিন্তু পুরুলিয়ার ঝালদা-২ ব্লকের বেগুনকোদর গ্রামে আজও খবর ছড়ায় ঢ্যাঁড়ার আওয়াজে। এই ‘ঢ্যাঁড়া’ই যেন গ্রামের পুরনো পত্রিকা। আর সেই ঐতিহ্যকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন আশি ছুঁইছুঁই তরণী কালিন্দী (Tarani Kalindi, Tradition of Purulia)।
সাদা ধুতি, সাদা জামা, খালি পা, হাতে কাঠের লাঠি আর কাঁধে ঝুলছে ঢ্যাঁড়া— এভাবেই প্রতিদিন গ্রাম ঘুরে বেড়ান তরণীবাবু। গ্রামের গলিগলি, মোড়, মন্দিরের চত্বর— সর্বত্র তাঁর কণ্ঠ আর ঢ্যাঁড়ার গর্জনে ভরে ওঠে। কোথাও মেলা বসবে, কোথাও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা জনসচেতনতা প্রচার— সব খবরই পৌঁছে দেন তিনিই।
তরণীবাবু বলেন, “আমি প্রায় ১৫ বছর বয়স থেকে এই কাজ করছি। তখন আমাদের গ্রামে মাইক বা মোবাইল কিছুই ছিল না। ঢ্যাঁড়া বাজিয়ে সবাইকে খবর দেওয়াই ছিল দায়িত্ব। আজও শক্তি আছে, তাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
গ্রামের প্রবীণদের মতে, একসময় প্রতিটি গ্রামেই ছিল ঢ্যাঁড়া পেটানো মানুষ। তাঁদের হাতেই ছড়িয়ে পড়ত খবর। এখন যুগ বদলেছে, কিন্তু বেগুনকোদরে সেই ঐতিহ্য টিকে আছে তরণী কালিন্দীর হাতে।
গ্রামের মানুষও তাঁর এই অনমনীয়তা দেখে গর্বিত। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল মাহাতো বলেন, “তরণী কাকু শুধু ঢ্যাঁড়া বাজান না, তিনি আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। ওঁকে ছাড়া গ্রাম অসম্পূর্ণ।”
আজ যখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামীণ জনজীবন বদলে যাচ্ছে দ্রুত, তখন তরণী কালিন্দী যেন এক জীবন্ত ইতিহাস, পুরনো দিনের সরলতা আর দায়বদ্ধতার প্রতীক। তাঁর ঢ্যাঁড়ার আওয়াজে শুধু খবর নয়, বাজে এক প্রজন্মের স্মৃতি।