সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, “দ্রুত টাকা পাওয়ার লোভে পড়ে অনেকেই নিজের গোপন তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্রুত ঋণ পাওয়ার লোভে (quick loan) অনেকেই এখন ডিজিটাল লোন অ্যাপ (Trap of digital lending apps) ব্যবহার করছেন। কিন্তু সেই লোভেই ফাঁদে পড়ছেন বহু মানুষ। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেল, এমনকি হুমকির অভিযোগও এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে কড়া সতর্কতা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার ক্রাইম উইং (Cyber Crime Wing, West Bengal Police)।
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন থানায় এই ধরনের অ্যাপ-সংক্রান্ত অভিযোগ হু হু করে বেড়েছে। কোভিড পরবর্তী সময় থেকেই বাড়ছে এই প্রবণতা। সহজে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু অবৈধ অ্যাপ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অ্যাপগুলির অনেকগুলিই আরবিআই বা কোনও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবু তারা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ‘প্রসেসিং চার্জ’ নেয় এবং ২৪ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদ আদায় করে।
শুধু তাই নয়—মোবাইলের কন্টাক্ট, ছবি ও ব্যক্তিগত ডেটা চুরি, ঋণ আদায়ের নামে অশালীন ভাষায় হুমকি, ব্ল্যাকমেল, ছবি মর্ফ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো—এসব অভিযোগ প্রতিদিনই আসছে সাইবার সেলে।
এ ব্যাপারে পুলিশের পরামর্শ
১. শুধুমাত্র আরবিআই-নিবন্ধিত ডিজিটাল লেন্ডিং অ্যাপ ব্যবহার করুন।
২. অ্যাপ ইনস্টলের সময় অপ্রয়োজনীয় পারমিশন (বিশেষ করে কন্টাক্টস, ফটো, গ্যালারি বা ফাইল অ্যাক্সেস) দেবেন না।
৩. শুধু গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে অ্যাপ থাকলেই তা নিরাপদ—এমন ভাবা ভুল।
৪. আধার, প্যান, ব্যাংক ডিটেলসের মতো ব্যক্তিগত তথ্য কোনও অচেনা অ্যাপ বা এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, “দ্রুত টাকা পাওয়ার লোভে পড়ে অনেকেই নিজের গোপন তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।” পুলিশের বার্তা স্পষ্ট—ঋণ না নিলেও চলে, কিন্তু মানহানি বা ডেটা চুরির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায় না।