প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকের নাগাল না পাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছে যাবে এই চলমান হাসপাতাল।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা—সব জায়গায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Hospital vans in remote villages and towns)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে চালু হল একসঙ্গে ১১০টি সম্পূর্ণ সজ্জিত মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (110 modern mobile medical units)।
স্বাস্থ্য ভবন থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবার এই নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র, ওষুধ—সবই থাকবে এই বিশেষ ভ্যানে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকের নাগাল না পাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছে যাবে এই চলমান হাসপাতাল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দলের রাজ্যসভার সাংসদদের উন্নয়নের তহবিল বাবদ পাওয়া ৮৪ কোটি টাকা খরচ করে এরকম ২১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট রেডি করে রেখেছি। এদিন ১১০টিপর উদ্বোধন হল।
তিনি জানান, এর আগেও আমরা সাংসদদের তহবিল থেকে ৩০০ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলাম। এবার দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবার ধাঁচে এই মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করা হল। এর ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার আরও উন্নতি ঘটবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ইউনিক পরিষেবা সচল রাখতে রাজ্যের প্রতি মাসে আড়াই কোটি টাকা খরচ হবে।
ওষুধ সরবরাহ থেকে রক্তচাপ, শর্করা, ইসিজি—সবধরনের জরুরি পরিষেবা মিলবে এই ইউনিটে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ভ্যানের সঙ্গে থাকবেন ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান।
গত কয়েক বছর ধরে ব্লক–স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। ১১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালুর ফলে পাহাড়, জঙ্গলমহল কিংবা নদীবিধৌত এলাকা—কোথাও আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা জরুরি চিকিৎসা ধাক্কা খাবে না, এমনটাই আশা সরকারি মহলের।
স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পরিকাঠামোকে মাটির মানুষের দরজায় নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন। এই ইউনিটগুলিই সেই সেতুবন্ধনের কাজ করবে।”
উদ্বোধনের পর ভ্যানগুলির একটি বড় বহরকে রওনা দিতে দেখা যায় স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে। মানুষও আশাবাদী—দূর গ্রামেও এখন থেকে ‘ডাক্তারবাবু’ তাদের দোরগোড়ায় আসবেন।