শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্বাচনী রোলে তাঁদের দু’জনের নামের পাশেই ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জনপ্রতিনিধির নামই যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তা হলে সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কী - এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 21:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) মুখে শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) প্রকাশের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার (Naihati Councillor Sushanta Sarkar) এবং তাঁর মা আরতি সরকারের (Arati Sarkar) নাম নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ‘ডিলিটেড’ (SIR Deleted) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্বাচনী রোলে তাঁদের দু’জনের নামের পাশেই ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জনপ্রতিনিধির নামই যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তা হলে সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কী - এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাঁরা লিখেছে - নির্বাচন কমিশন আর কত নীচে নামবে? খসড়ার তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে এই বিজেপির দালালরা! এক্ষেত্রে তাঁরা এও প্রশ্ন তুলেছে, বিজেপির বেঁধে দেওয়া কোটির গণ্ডি পার করতে কি একের পর এক ভোটারের নাম এভাবে বাদ দেবে 'দালাল' কমিশন? নাকি আবারও BLO-দের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে?
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বহু প্রতীক্ষিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List 2026) প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, খসড়া পর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত রাজ্যে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। তবে তালিকা প্রকাশ হলেও বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বে এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ভোটার ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। SIR-এর আগে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ নাম ছিল বাংলার ভোটার তালিকায়। যদিও সিইও জানিয়েছেন, এতবড় একটা কাজ হয়েছে, ভুলভ্রান্তি কিছুটা হতেই পারে। তিনি এও জানান, যে ভুল হয়েছে সেগুলি ছোটোখাটো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
তবে চূড়ান্ত তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা ফের আবেদন করতে পারবেন। যদি তাঁদের কাছে উপযুক্ত নথি থাকে। প্রথমে ডিইও-র কাছে আবেদন করতে পারবেন, সেখানে সন্তুষ্টি না পেলে সিইও-র কাছে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।