অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, ২০০৫ সালে সংসদে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তখন বলা হয়েছিল, এদের না সরালে রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে।

দিলীপ ঘোষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 February 2026 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Elections 2026) ঘোষণার আগে শনিবার এসআইআরের (West Bengal SIR) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। সেই তালিকায় কাদের নাম কীভাবে থাকবে (West Bengal SIR Final Voter List) তা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহে শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “তালিকা বেরোতে দিন, সাসপেন্স আছে।”
এসআইআর-এ (West Bengal SIR) নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি ও হুমকির প্রশ্নে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। দিলীপের বক্তব্য, গত প্রায় তিন মাস ধরেই এই ইস্যুতে ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে ফল কী? তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে। বিজেপি আগেই এমন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে সেই হিসেব মানতে হল কেন।
অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, ২০০৫ সালে সংসদে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তখন বলা হয়েছিল, এদের না সরালে রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কতটা পদক্ষেপ হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিলীপের মতে, যে বিষয় একসময় ‘বিপদ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, সেটাই পরে রাজনৈতিক ‘সম্পদে’ পরিণত হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। শুনানির জন্য যাঁদের ডাকা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক অনুপস্থিত ছিলেন - এই কারণেই আরও প্রায় ৫০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি তথ্যে অসঙ্গতির জেরে আরও প্রায় ৩৫ লক্ষ নাম প্রশ্নের মুখে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দেড় কোটির ঘরে পৌঁছতে পারে বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতা।
এই প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই তৃণমূল এই প্রক্রিয়া থামাতে চেয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। আদালতের দ্বারস্থ হয়েও তেমন সাফল্য মেলেনি বলেও দাবি তাঁর।
এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেলে রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়বে - এই প্রশ্নে দিলীপের জবাব, বিরোধীরাই লাভবান হবে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার এলাকায় গড়ে প্রায় ৭০ হাজার করে নাম বাদ গিয়েছে, যা মোট ভোটারের ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল ও ভোটভিত্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে পারে বলেই মত তাঁর।