মাসের পর মাস অর্থ আটকে থাকায় শ্রমিক, ঋণদাতা ও ব্যাংকের দেনা শোধে সমস্যা হচ্ছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো পরিবারের মধ্যে তীব্র দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

‘জল জীবন মিশন’
শেষ আপডেট: 22 September 2025 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সঙ্গে তিন-চার দশক ধরে কাজ করে আসা ঠিকাদারদের সংগঠন অল বেঙ্গল পিএইচই কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (সিভিল) ‘জল জীবন মিশন’ (জেজেএম) প্রকল্পে বকেয়া অর্থের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২ লক্ষ আট হাজার ৬৫২ কোটি টাকার ব্যয়ে ‘জল জীবন মিশন’ বা ‘হর ঘর জল প্রকল্প’ চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে পানীয় জলের সংযোগ করে দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়েছিল, যেখানে ব্যয় সমান হারে কেন্দ্র ও রাজ্যের ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল।
প্রায় ১.৭৩ কোটি পরিবারের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে ইতিমধ্যেই পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারদের কাছে এখনও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, আর প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিল জমা দেওয়া বাকি।
প্রকল্পের সময়সীমা বারবার বাড়ানো হলেও অর্থ ছাড়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত ২৮ হাজার কোটির মধ্যে ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্র মাত্র ১৩,৩১৩.৫৪ কোটি টাকা ছাড় করেছে। রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ বাজেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১১,৬৩৬ কোটি বরাদ্দ ঘোষণা করলেও ঠিকাদারদের আর্থিক সংকট কাটেনি।
অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মানস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সরকারের এই মিশনকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে ও ব্যক্তিগত সম্পদ বন্ধক রেখে বৃহৎ পরিসরের কাজ হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু মাসের পর মাস অর্থ আটকে থাকায় শ্রমিক, ঋণদাতা ও ব্যাংকের দেনা শোধে সমস্যা হচ্ছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো পরিবারের মধ্যে তীব্র দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।”
হাওড়া পিএইচই কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের চিফ হুইপ তাপস ঘোষ জানান, “প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আমরা বহুবার বিষয়টি তুলেছি, কিন্তু কার্যকর সমাধান মেলেনি। দুর্গাপুজো আসন্ন, অথচ বহু ঠিকাদার, শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক চাপে উৎসবটাও আনন্দে কাটাতে ভয় পাচ্ছেন।”
মুর্শিদাবাদ জেলা কন্ট্রাক্টরস (বিল্ডার্স) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ের কাছে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করা হোক এবং সময়মতো অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।
ঠিকাদাররা ‘জল জীবন মিশন’-এর প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনরায় জানাচ্ছেন এবং প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাচ্ছেন, যাতে লাখো পরিবারের জীবিকা রক্ষা পায় ও অস্থিরতা এড়ানো যায়।”