এই রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কারাগার দফতরের শীর্ষ পদে পরিবর্তন। দেখা গিয়েছে, যাঁদের নতুন দায়িত্বে বসানো হয়েছে, তাঁদের পুরনো পদে নিয়োগ করেনি কমিশন। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে কারাগার দফতরের ক্ষেত্রে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 16 March 2026 21:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার (West Bengal Assembly Elections 2026) পরই পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোট ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে নতুন দায়িত্বে বসানো হয়েছে অন্যদের। এই পদক্ষেপকে অনেকেই নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP) পদ থেকে সরানো হয়েছে পীযূষ পাণ্ডেকে। তাঁর জায়গায় নতুন ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। একইভাবে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকেও সরানো হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইপিএস অজয় নন্দাকে।
তবে এই রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কারাগার দফতরের শীর্ষ পদে পরিবর্তন। দেখা গিয়েছে, যাঁদের নতুন দায়িত্বে বসানো হয়েছে, তাঁদের পুরনো পদে নিয়োগ করেনি কমিশন। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে কারাগার দফতরের ক্ষেত্রে। ওই পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইপিএস নটরাজন রমেশ বাবুকে।
অর্থাৎ এই পদের প্রধান কে হবেন, তা সরাসরি নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করেছে। অন্য পদগুলিতে করেনি। ফলে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের অনেকেই।
এখানে বলে রাখা ভাল, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ শেষবার যখন কলকাতায় এসেছিল তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কারাগার দফতর নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন।
কী বলেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দাবি করেছিলেন, কমিশনের কাছে খবর রয়েছে যে নির্বাচনের সময় কারাগার থেকে কয়েক দিনের জন্য কিছু আসামি ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, এমন কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
কলকাতা সফরের সময় কমিশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। মুখ্যসচিব ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও আলাদা আলোচনা হয়। পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ কুমার।
তাঁর বক্তব্য ছিল, প্যারোলে মুক্তির প্রক্রিয়া ছাড়া ভোটের সময় দু’এক দিনের জন্য অভিযুক্তদের বাইরে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে হবে।
তার পরই ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক ধাক্কায় রাজ্যের পাঁচজন শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যেই কারাগার দফতরের শীর্ষ পদে সরাসরি পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট বার্তা মিলছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ভোট যাতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সবদিক ভেবেই নানা পদক্ষেপ করছে কমিশন।