কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। সেই কারণে ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। যে কোনও ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 16 March 2026 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা (West Bengal Assembly Election 2026 Dates) হয়ে গেছে। সেই ভোটকে সামনে রেখে সোমবার সর্বদল বৈঠকের পর বিস্তারিত প্রস্তুতির কথা জানাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) এবং কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকেরা আসন্ন ভোটে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নির্ভুল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত করেন।
কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। সেই কারণে ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। যে কোনও ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতি দফায় ২,২০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে। প্রতি জেলায় দুজন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন এবং কমিশনারেটে দুজন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন।
ভোটকে কেন্দ্র করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো রুখতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে ইন্টারনেট মাধ্যমের উপর নজরদারি রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটের সময়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ১১২ কোটি টাকার জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইও। এর মধ্যে নগদ টাকাও রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুথ স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে কোনও ভোটারকে ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা না ঘটে। ভোটকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের ছবি সংরক্ষণ করা হবে, হার্ড কপি ও নরম কপি - যাতে প্রয়োজনে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সম্ভাব্য সমস্যাযুক্ত কেন্দ্রগুলির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সেখানে ত্রুটিপূর্ণ ভোটযন্ত্র, হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড় বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কর্মীদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হবে। কিছু সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থাও করা হয়েছে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটার এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক অক্ষমতার শংসাপত্র থাকা ব্যক্তিরা চাইলে বাড়িতে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ভোটকেন্দ্রে ভয় দেখানো, হামলা বা অন্য কোনও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বেআইনি অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রেও কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকবে, আগেই অনুমোদিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য কোনও অস্ত্র বহন করা যাবে না।
সিইও স্পষ্ট করেন, কোনও হুমকি দেওয়া বা এই জাতীয় কিছু যে হবে না, তা আমরা নিশ্চিত করব। ইচ্ছাকৃত ভুল হলে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর যেখানে পুলিশ পর্যবেক্ষক চাইবেন, সেখানেই ড্রোন রাখা হবে। তিনি এও জানান, থানা অনুযায়ী রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বোমা, অস্ত্র কী রয়েছে সেগুলি বাজেয়াপ্ত হয়েছে কিনা। এর পরেও সমস্যা হলে ওসিকে দায় নিতে হবে।
রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৭১৯। ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত মহিলা কর্মীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬১। পাশাপাশি প্রবীণ, গর্ভবতী ও বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন এমন ভোটারদের জন্য ৬৩৪টি বিশেষ আদর্শ ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে এসআইআর পর্বের পর সাপ্লিমেন্ট তালিকা নিয়েও যে প্রশ্ন উঠছে সেই নিয়ে সিইও নিশ্চিত করেন, এই তালিকায় কারও নাম বাদ গেলে তাঁরও সুযোগ থাকবে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার।
নতুন উদ্যোগ হিসেবে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল জমা রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। টোকেন পদ্ধতিতে ভোটাররা মোবাইল জমা রেখে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ভোটারদের তথ্যপত্র খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে এবং তাতে দ্রুত যাচাইয়ের জন্য বিশেষ সংকেত চিহ্নও থাকবে।
ভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা এক জায়গায় আনতে নির্বাচন কমিশন একটি নতুন সমন্বিত মোবাইল মাধ্যমও চালু করেছে। এর মাধ্যমে ভোটাররা নানা তথ্য ও পরিষেবা সহজেই পেতে পারবেন বলে কমিশনের দাবি।