গত সপ্তাহে দিল্লিতে যখন বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়, তখন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দুজনেই আলাদা করে ভবানীপুরের ব্যাপারে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেছিলেন।

শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 March 2026 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরেই এক প্রকার পাকা কথা হয়ে গেছিল। দ্য ওয়ালে সেই খবর সবার আগে প্রকাশ হয়েছিল। শেষমেশ হলও তাই। নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও ভবানীপুর (Bhawanipur) দুই বিধানসভা আসনেই শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) প্রার্থী করল বিজেপি (পড়ুন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ)।
গত ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার কোনও চমক ছিল না। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বহুদিন আগে থেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন শুভেন্দু। বারবার প্রকাশ্যে সে কথা বলছিলেন। ভবানীপুরে ভোটার তালিকার সংশোধনের ব্যাপারেও (SIR) তাঁকে সক্রিয় দেখা যায়।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে যখন বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়, তখন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দুজনেই আলাদা করে ভবানীপুরের ব্যাপারে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেছিলেন। শুভেন্দু তখনও বলেছিলেন, উপযুক্ত কাউকে না পেলে আমাকে লড়তে দিন। আমি লড়ব।
সূত্রের খবর, এর পর এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেন অমিত শাহ। মোদীর থেকে সবুজ সঙ্কেত নেন। তার পর শুভেন্দুকে আলাদা করে তা জানিয়েও দেন অমিত শাহ।
বলা যেতে পারে ৭২ ঘণ্টা আগেই শুভেন্দু নিশ্চিত হয়ে যান যে ভবানীপুরে তাঁকে প্রার্থী করবে দল। এর পর রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তা দেখেও উচ্ছ্বসিত ছিলেন শুভেন্দু। তার কারণ, এবার প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট হবে নন্দীগ্রামে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ভবানীপুরে। অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভবানীপুরে আরও সময় দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, অমিত শাহদের শুভেন্দু বুঝিয়েছেন তিনি ভবানীপুরে প্রার্থী হলে গোটা বাংলায় একটা স্পষ্ট বার্তা চলে যাবে। তা হল—তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিজেপি এবার সিরিয়াস। অনেকে যে সেটিংয়ের তত্ত্ব খাড়া করছেন তা ভেস্তে যাবে। পরিবর্তনের জন্য বিজেপি লড়াইয়ের প্রতি আস্থা বাড়বে।
তবে বিজেপির মধ্যে অনেকের মতে, এর মধ্যে শুভেন্দুর নিজেরও অঙ্ক রয়েছে। এই ভোটে বিজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু প্রার্থী হওয়াই তিনি ডিফল্ট প্রোজেক্টেড হয়ে যাবেন বলেই হয়তো মনে করেছেন।
তবে সে যাই অঙ্ক থাক। ভবানীপুরে এবার ভোট হবে হাইভোল্টেজ। তা নিয়ে আর সংশয় থাকল না।