চেতলার এই কর্মিসভা থেকেই ভোটের রণকৌশলের প্রাথমিক বার্তা দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী শিবিরকে ঘিরে কীভাবে প্রচারের দিশা নির্ধারণ হবে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠকেই।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 March 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রচারের ময়দানে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার কলকাতার চেতলায় কর্মিসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে তাঁর নির্বাচনী প্রচার। ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সহ ভবানীপুরের কাউন্সিলরদের।
চেতলার এই কর্মিসভা থেকেই ভোটের রণকৌশলের প্রাথমিক বার্তা দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী শিবিরকে ঘিরে কীভাবে প্রচারের দিশা নির্ধারণ হবে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠকেই।
তৃণমূল সূত্রে খবর, চেতলার সভার পরই উত্তরবঙ্গমুখী হবেন মমতা। আগামী ২৫ মার্চ কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে তাঁর জনসভা করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরের দিন চালসাতেও সভা করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গ দিয়েই রাজ্যজুড়ে প্রচারের গতি বাড়াতে চাইছে শাসকদল।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঙ্গলবার থেকে প্রচার শুরু করে দেবেন। ২৪ মার্চ থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জনসভা শুরু করবেন তিনি। প্রথম কর্মসূচি পাথরপ্রতিমায়। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি ও নারায়ণগড়ে একাধিক সভা রয়েছে তাঁর।
এবারও তৃণমূলের বিশেষ নজর রয়েছে নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ, ওই কেন্দ্র থেকেই এবারও লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। ফলে এবারও এই কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
২৬-এর ভোটে তৃণমূল নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। দলের একাংশের মতে, এই প্রার্থী নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, কৌশলগতও। কারণ, একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন পবিত্র। তৃণমূলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধী শিবিরের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবারই ২৬-এর নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রস। সেই ইস্তাহারের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’। মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার—প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছে শাসকদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নতুন প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ।
সব মিলিয়ে, একদিকে মমতার উত্তরবঙ্গ সফর, অন্যদিকে অভিষেকের দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে সভা - দুই দিক থেকেই প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল। নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন শাসকদলের মূল লক্ষ্য।