মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নতুন প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ।

২০২৬ বিধানসভা ভোটের ইস্তাহার প্রকাশ তৃণমূলের
শেষ আপডেট: 20 March 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বড় ঘোষণা। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার (TMC Election manifesto 2026) প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই ইস্তাহারের কেন্দ্রবিন্দুতে রইল ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’। মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার—প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছে শাসকদল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নতুন প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ।
‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা—এক নজরে’
তৃণমূলের ইস্তেহারে দাবি করা হয়েছে—১.৭২ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার বাইরে আনা হয়েছে। রাজ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বাংলা বেকারত্ব ৪০% কমেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি করেছে শাসকদল।
ইস্তাহারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে—১০০ দিনের কাজে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আবাস যোজনায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, এই অর্থ না পাওয়ায় রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তৃণমূল ইস্তেহারে জানিয়েছে—আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ৫ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। গ্লোবাল ট্রেড হাব, বন্দর, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সম্ভবত ইস্তেহারে এসব ঢুকিয়েছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।
এ ছাড়া প্রশাসনিক বিষয়ে ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ঘোষণা করা হয়েছে ইস্তেহারে। বলা হয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। বকেয়া ডিএ বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হবে।
সব মিলিয়ে, নারী–যুব–কৃষক—সব স্তরের ভোটারকে লক্ষ্য করে তৈরি এই ইস্তাহারই আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।