কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে নিজের আপত্তি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ব্যাপক বদল প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 20 March 2026 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা করেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar)। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি, সিপি, ডিআইজি - এমনকি জেলা প্রশাসনের ডিএম ও ডিইওদেরও ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে উঠেছে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে নিজের আপত্তি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ব্যাপক বদল প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।
এবার এই ইস্যুর জল পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছেন আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব মূলত ভোট পরিচালনা করা। কিন্তু রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের নেই।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং তা সাংবিধানিক সীমারেখার বাইরে। সেই কারণে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
এই মর্মে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই মামলা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত শুনানির আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচন-পূর্ব প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে আইনি লড়াই এখন নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।
বৃহস্পতিবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে লম্বা পোস্ট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্টত অভিযোগ ছিল, বাংলাকে নজিরবিহীনভাবে নিশানা করেছে নির্বাচন কমিশন। যেভাবে প্রশাসনিক রদবদল করা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়। কারণ দুপুরেই ফের একাধিক আধিকারিককে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। অপসারিত একাধিক আইপিএস-আইএএস অফিসারকে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিতও করা হয়।
এই আবহে বিকেলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সংক্রান্ত ইস্যুতে এটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় চিঠি। সেখানে তিনি আবারও উল্লেখ করেছিলেন, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যেভাবে গণ-বদল এবং আধিকারিকদের সরানোর প্রক্রিয়া চলছে, তা কেবল একপাক্ষিকই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এক গুরুতর আঘাত।
চিঠিতে লিখেছেন, ইদানীংকালে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি সৌজন্যের সমস্ত সীমা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ধরনের পদক্ষেপ কমিশন নিচ্ছে, তাতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের ছায়া দেখছেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, “কমিশন বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।”
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন জনস্বার্থ বিরোধী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকে এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করে।