মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইদানীংকালে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি সৌজন্যের সমস্ত সীমা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ধরনের পদক্ষেপ কমিশন নিচ্ছে, তাতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের ছায়া দেখছেন তিনি।

জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 19 March 2026 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্তে নজিরবিহীন সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবারও দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC) কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যেভাবে গণ-বদল এবং আধিকারিকদের সরানোর প্রক্রিয়া চলছে, তা কেবল একপাক্ষিকই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এক গুরুতর আঘাত।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইদানীংকালে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি সৌজন্যের সমস্ত সীমা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ধরনের পদক্ষেপ কমিশন নিচ্ছে, তাতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের ছায়া দেখছেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, “কমিশন বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।”
প্রশাসনিক অচলাবস্থার আশঙ্কা
এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের হঠাৎ বদলির বিষয়টি বেশিই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG) এবং আইজি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের অফিসারদের যেভাবে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘একতরফা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মমতা লেখেন, ডিএম, এসপি থেকে শুরু করে খাদ্য দফতর বা পিডব্লিউডি-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসারদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের কাজে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ায় বাংলার প্রশাসন প্রায় অচল হওয়ার মুখে।
কালবৈশাখীর দাপট ও বিপর্যয় মোকাবিলা
চিঠির একটি বড় অংশে মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে বাংলায় প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের (কালবৈশাখী) সম্ভাবনা থাকে। এই সময়ে স্থানীয় পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক গঠন সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে এমন অভিজ্ঞ অফিসারদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। অথচ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় জরুরি বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখার কাজ চরম বিঘ্নিত হবে। বাইরে থেকে আসা আধিকারিকদের পক্ষে স্থানীয় ভাষা ও সংবেদনশীলতা বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে যদি কোনও প্রশাসনিক বিপর্যয় ঘটে, তার দায়ভার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো
সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, আদালত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বললেও কমিশন যেভাবে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করছে, তা আদতে ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর মতে, নির্বাচিত সরকারকে এভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা আদতে পরোক্ষ জরুরি অবস্থা জারির শামিল, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন জনস্বার্থ বিরোধী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকে এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করে।
বস্তুত, ভোট ঘোষণার (West Bengal Election 2026) পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ৫ শীর্ষ অফিসারকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আগেও সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গত সোমবারও তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) একটি চিঠি দিয়েছিলেন। যেখানে তিনি কমিশনের ওই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিযোগ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার তিন দিনের মাথায় ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।