চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত বছরে একবার লিভার পরীক্ষা করানো উচিত। যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2026 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫০০ টাকার একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষাই বাঁচাতে পারে প্রাণ—এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে দ্রুত বাড়ছে জীবনযাত্রা-জনিত অসুখ, আর তার মাঝেই লিভারের রোগ অনেক সময় চুপিসারে শরীরের ভেতর বাসা বাঁধে। তাই নিয়মিত লিভার পরীক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘লিভার ফাংশন টেস্ট’। খুব সাধারণ এই পরীক্ষার মাধ্যমেই লিভারের ক্ষতির প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়ে, তাও উপসর্গ দেখা দেওয়ার অনেক আগেই। গবেষণা বলছে, বিশ্বে লিভারজনিত মৃত্যুর ১৮ শতাংশই ভারতে ঘটে। মদ্যপান, ফ্যাটি লিভার ও ভাইরাল হেপাটাইটিস—এই তিনটি বড় কারণ।
সমস্যা হল, লিভার অনেকটাই ‘নীরব’ অঙ্গ। সহজে লক্ষণ প্রকাশ পায় না। চিকিৎসকদের মতে, জন্ডিস, পেটে জল জমা বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে ততদিনে রোগ অনেকটাই বেড়ে গেছে। তখন স্বভাবতই চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। একটি লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ ভারতে প্রায় ২০ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাও হাসপাতালে ভেদে। এর সঙ্গে যোগ হয় আইসিইউ, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসার খরচ—যা সাধারণ পরিবারের পক্ষে প্রায় অসহনীয়।
অন্যদিকে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শহুরে যুবকদের মধ্যে এই সমস্যা চোখে পড়ছে বেশি। স্থূলতা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত মদ্যপান বা কোলেস্টেরল—এই সব থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি ও সি-ও বড় কারণ, যদিও সঠিক সময়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত বছরে একবার লিভার পরীক্ষা করানো উচিত। যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে লিভারের রোগ অনেকটাই ঠিক হওয়া সম্ভব হয়।
খরচের দিক থেকেও এই পরীক্ষার গুরুত্ব আলাদা। ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার একটি পরীক্ষাই যেখানে বড় বিপদ ঠেকাতে পারে, সেখানে দেরিতে ধরা পড়লে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেও পুরোপুরি সুস্থ হওয়া কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্ক্রিনিং শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, আর্থিক দিক থেকেও বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। আগেভাগে ধরা পড়লে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সময়মতো চিকিৎসা—সবই সহজ হয়। তাই এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। ছোট্ট একটি পরীক্ষা ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়াতে পারে—এই বার্তাই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।