কদিন আগে রাজ্যে প্রচারে এসে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তার পরই এই ঘোষণা তৃণমূলের।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মমতার
শেষ আপডেট: 20 March 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ (DA) নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মাঝেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Manifesto 2026)। বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assemble Election 2026) ইস্তাহারে শুধু বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রতিশ্রুতিই নয়, সেই সপ্তম পে কমিশন চালুর ঘোষণা এবং সামগ্রিক বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কদিন আগে রাজ্যে প্রচারে এসে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তার পরই এই ঘোষণা তৃণমূলের।
ইস্তাহারে জানানো হয়েছে, রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ কথা এমনিতেও ভোট ঘোষণার আগেই টুইট করে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে নবান্ন বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে।
তবে ইস্তাহারে কোথাও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং সরকার যে নিজেদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই এই সমস্যা মেটাতে চাইছে, সেটাই স্পষ্ট করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের বিপুল পরিমাণ বকেয়া আটকে রয়েছে, যার ফলে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এককালীন বড় অঙ্কের ডিএ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শুধু ডিএ নয়, ইস্তাহারে আরও বড় ঘোষণা হল সপ্তম পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি। বলা হয়েছে, রাজ্যে নতুন পে কমিশন গঠন করে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হবে। অর্থাৎ, ডিএ-র বাইরে গিয়েও সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে ডিএ-সহ অন্যান্য ভাতা এবং বেতনের গঠন নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সেই প্রক্রিয়া কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ইস্তাহারে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষেবা প্রদানের গতি বাড়ানো, অভিযোগ নিষ্পত্তি দ্রুত করা এবং কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বিশেষ ডেলিভারি ইউনিট গঠনের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্তাহারে কর্মচারীদের জন্য বার্তা দ্বিমুখী। একদিকে আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি—ডিএ বকেয়া ও পে কমিশন; অন্যদিকে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলি কতটা সন্তুষ্ট হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ, তাদের মূল দাবি এখনও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ—যা এই ইস্তাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের ইস্তাহারে ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন—এই দুই ঘোষণাই নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে, এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ পায় এবং ভোটের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতদূর পড়ে।