বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election 2026) মালদহের কালিয়াচকে ঘটে যাওয়া বিচারক ঘেরাও-কাণ্ডের তদন্ত করবে সিবিআই (CBI In Maldah Kaliachak)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবারই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সিবিআই-এনআইএ তদন্ত করতে পারে। তারপরই কমিশন সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।
বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। প্রায় রাত পর্যন্ত তাঁদের আটক করে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনাই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর নির্বাচন কমিশন সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল এই সংক্রান্ত রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে জমা দেবে তাঁরা। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান (ISF Candidate) আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের সকলকেই মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে, তারপর ভোট প্রক্রিয়া শুরু হোক - এই দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিকেল চারটে নাগাদ ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন সাতজন বিচারক। তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন।
মালদহের ঘটনায় কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা জানান, এ রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ পালন নিয়েও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা ‘রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ’ আগে কখনও দেখেনি।
যদিও এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি বিক্ষোভস্থলে ছিলেন না। একটি জলসা থেকে ফেরার পথে তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।