আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক ভাবেও যে তাঁরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ, এদিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

ডেরেক ও’ব্রায়েন ও ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 1 April 2026 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার হোক বা মহারাষ্ট্র, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে ‘ভুয়ো ভোটার’ এনে বাংলার নির্বাচনী বৈতরণী পার (West Bengal Assembly Election 2026) হওয়ার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির (BJP)। বুধবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানালেন, নির্বাচন কমিশন হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও ঘাসফুল শিবিরের হাজার হাজার কর্মী অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভোটার তালিকার প্রতিটি নাম খতিয়ে দেখছেন। জালিয়াত ভোটারদের হদিশ পেলেই তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
তৃণমূলের দাবি, এই ‘কারচুপি’ নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেতাজি ইনডোর স্টেশনের সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সর্তক করেছিলেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বিজেপির আনা সেই বিতর্কিত ‘ফর্ম-৬’-এর বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সওয়াল করছে রাজ্য। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক ভাবেও যে তাঁরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ, এদিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন বিহারের একাধিক ভোটারের নথিপত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, “যে ভুলগুলো নির্বাচন কমিশনের ধরার কথা, সেগুলো তৃণমূলকে ধরতে হচ্ছে। কমিশন টুইট করতে ব্যস্ত, আর এদিকে গাদা গাদা ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে বাংলাকে দখলের চেষ্টা চলছে।” তাঁর দাবি, সব সংসদীয় সংস্থাকে ধ্বংস করার যে মডেল বিজেপি দেশজুড়ে চালাচ্ছে, বাংলাতেও সেই একই চিত্রনাট্য কার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছে।
বিজেপির এই ‘মডেল’ রুখতে তৃণমূল যে কোমর বেঁধে নেমেছে, সেই বার্তাও দিয়েছেন ব্রাত্য। তাঁর কথায়, “ওরা ভাবছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে নামগুলো মসৃণভাবে তালিকায় ঢুকিয়ে দেবে। কিন্তু ভাই, গৃহস্থ সজাগ আছে। আমরা মাটি কামড়ে পড়ে আছি।”
নির্বাচন কমিশনকেও এদিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে শাসকদল। ব্রাত্য জানান, তৃণমূলের কর্মীরা প্রতি মুহূর্তে জেগে রয়েছেন। এটি বিহার বা হরিয়ানা নয় যে, যা খুশি তাই করা যাবে। কতগুলো জালিয়াতি করে ভোটার ঢোকানো হচ্ছে, তার খতিয়ান এবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ফাঁস করে দেবে তৃণমূল। ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে এই চাপানউতোর যে দিল্লির দরবার পর্যন্ত গড়াবে, সেই ইঙ্গিতই এদিন দিয়ে রাখলেন ডেরেক-ব্রাত্যরা।
যদিও ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশন ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। তাদের স্পষ্ট কথা, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃত করে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যদি কারও নাম বাদ যায় তাহলে সেটার মধ্যে ধর্ম বা জাতি খোঁজার কোনও প্রয়োজন নেই।
তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, ভবানীপুরের একজন ভোটার ছিলেন (নাম না করে প্রশান্ত কিশোর) যাঁর আবার বিহারের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। এসব ক্ষেত্রে যতক্ষণ না সরকারিভাবে কেউ অভিযোগ জমা দিচ্ছে ততক্ষণ কমিশন কী করবে? শুধু মুখে বললে হবে না, সব সঠিক তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে।