দুর্যোগের পর ফ্লাইট ভাড়ার লাগামছাড়া বৃদ্ধির অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “বাগডোগরা থেকে কলকাতার টিকিট ১৮ হাজার! কেউ কেউ দিল্লি ঘুরে আসছেন, খরচ পড়ছে ৪২-৪৫ হাজার টাকা! এটা বৈষম্য নয়?”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরাকাটায় (Nagrakata, North Bengal) ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ( BJP MP Khagen Murmu), এ ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Modi) যেখানে দায় চাপিয়েছে রাজ্য সরকারের ঘাড়ে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উল্টে প্রশ্ন ছুড়লেন বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে।
বুধবার কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম (Charity begins at home)! এটা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয় তো?”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার পরেই যে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হচ্ছিল, তা এদিন স্পষ্ট করেই দিয়ে দিলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, সেটা তো বিজেপির এলাকা। এমপি, এমএলএ—সবই বিজেপির।” সঙ্গে যোগ করেছেন, “বন্যা বা দাঙ্গার মতো পরিস্থিতিতে এমন ক্ষোভ হতেই পারে। কারণ, ঘর বাড়ি হারিয়ে মানুষের মাথা ঠিক থাকে না। তবে তদন্ত চলছে। কেউ ছাড় পাবে না।”
মমতা এদিন কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়েও। তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে ৩০-৪০টা গাড়ি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে দুর্গত এলাকায় ঢুকে পড়া কতটা যুক্তিসঙ্গত? আগে তো মানুষকে উদ্ধার করতে হবে! লোক দেখানো কনভয়ে কী হবে?”
তবে এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বলেন, “বিহারে ভোট আছে বলে ছটপুজোয় ফ্লাইটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ছটপুজো তো বাংলাতেও হয়। তাহলে এখানকার মানুষের জন্য সেই সুবিধা কই?”
দুর্যোগের পর ফ্লাইট ভাড়ার লাগামছাড়া বৃদ্ধির অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “বাগডোগরা থেকে কলকাতার টিকিট ১৮ হাজার! কেউ কেউ দিল্লি ঘুরে আসছেন, খরচ পড়ছে ৪২-৪৫ হাজার টাকা! এটা বৈষম্য নয়?”
তবে সবকিছুর মাঝেও মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকার মানুষের পাশে ছিল এবং আছে। “বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের জন্য ৪৫টি ভলভো বাসের ব্যবস্থা করেছি। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছি,” জানান মমতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খগেন মুর্মুর উপর হামলার ঘটনায় বিজেপিকে ঘায়েল করতে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তৃণমূল। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরাসরি আক্রমণের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশলী পাল্টা বক্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য। সেই সূত্রে সামনে আসছে যে প্রশ্ন, খগেন মুর্মুর উপর হামলার দায় কার? বাইরের শত্রু, না ঘরের শত্রুই?