চাকরি হারিয়ে বহুদিন ঘরবন্দি ছিলেন তনুশ্রী। সমাজের কটাক্ষ, অসহায়তা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষমেশ চপ-ঘুগনির দোকানই এখন তাঁর নতুন ভরসা!

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় স্কুলে শিক্ষা কর্মীর কাজ করতেন, এখন ভাজেন চপ! ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের (Recruitment Corruption Scam) তালিকায় নাম ওঠার পর মালদহের দম্পতির জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।
রতুয়ার মনিপুরের সম্বলপুর অঞ্চল হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষাকর্মী তনুশ্রী সাহা সিংহ এবং তাঁর স্বামী বিজয় সিংহ — দু’জনেরই চাকরি গেছে একসাথে (A couple of School workers in Maldah after losing their jobs)।
২০১৮ সালে একই স্কুলে নিয়োগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তারপর থেকে একসাথে স্কুলের কাজ করতেন, সংসার চলত মসৃণভাবেই। কিন্তু চাকরি বাতিলের রায় বদলে দিয়েছে সব। হাতে জমানো সঞ্চয় শেষ, কাঁধে ঋণের বোঝা। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনাও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
চাকরি হারিয়ে বহুদিন ঘরবন্দি ছিলেন তনুশ্রী। সমাজের কটাক্ষ, অসহায়তা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষমেশ চপ-ঘুগনির দোকানই এখন তাঁর নতুন ভরসা (Chop shop, school classroom)!
মালদহ শহরের ব্যস্ত রথবাড়ি এলাকায়, জেলা তৃণমূল কার্যালয় থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে ছোট্ট গুমটি ঘর ভাড়া করে শুরু করেছেন জীবনের নতুন লড়াই। দোকানে পাওয়া যায় চপ, মুড়ি, ঘুগনি, চিপস, সিগারেট। তবে প্রধান আকর্ষণ চপই!
পড়াশোনার ফাঁকে ছেলেও মায়ের পাশে দোকানে হাত লাগায়। অন্যদিকে বিজয় সিংহ সংসার চালাতে এখন গাড়ি চালান। মাঝেমধ্যে চপও ভাজেন।
পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করছেন তনুশ্রী। তাঁর কথায়, "আমাদের এই পরিণতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী। ওনার জন্য এইভাবে আমাদের পথে বসতে হল।"
স্থানীয় এক চালক বললেন, “কি করবেন বলুন? চাকরি গেল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। পেট তো এসব বুঝবে না। তাই চপের দোকান খুলেছেন, আমরা রোজই আসি।”
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক ও বিরোধী — দুই পক্ষই দোষারোপে ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে, সংসার বাঁচাতে চপের দোকানেই আজ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই চাকরিহারা দম্পতি।
চাকরি বাতিলের রায়, সংসারে অন্ধকার — রতুয়ার শিক্ষাকর্মী দম্পতির হাতে এখন চপের কড়াই!