জলদাপাড়া, গরুমারা, বক্সা-উত্তরবঙ্গের গভীর জঙ্গলে এখন জলই একমাত্র বাস্তবতা। আর সেই জলে তলিয়ে যাচ্ছে হাতি, বাইসন, গণ্ডার, পাখি- বনাঞ্চলের বাসিন্দা, এক একটি প্রাণ।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 21:59
এক রাতের মুষলধারে বৃষ্টিতেই বদলে গেছে উত্তরবঙ্গের (Disaster in the North Bengal) চেনা ছবি। পাহাড়-তরাই ডুয়ার্সে ধস, প্লাবন, ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ির পাশাপাশি বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে বন্যপ্রাণের উপরও (Wild Life)। জলদাপাড়া, গরুমারা, বক্সা-উত্তরবঙ্গের গভীর জঙ্গলে এখন জলই একমাত্র বাস্তবতা। আর সেই জলে তলিয়ে যাচ্ছে হাতি, বাইসন, গণ্ডার, পাখি- বনাঞ্চলের বাসিন্দা, এক একটি প্রাণ।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র জলদাপাড়ায় (Jaldapara Forest)। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের নীচে। কোথাও কোমর সমান জল, কোথাও বা বুক ছাপিয়ে। তার মধ্যেই গণ্ডারের দল লোকালয়ে! তিনটি গণ্ডার জলের তোড়ে ঢুকে পড়েছিল বসত এলাকায়। বনকর্মীরা দুটিকে উদ্ধার করে ফেরত পাঠালেও, একটি গণ্ডার এখনও লোকালয়ের পাশ দাঁড়িয়ে, জলে নামতে চাইছে না। টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (Forest Minister Birbaha Hansda) জানালেন, “ও জল দেখে ভয় পাচ্ছে। জঙ্গলে ঢুকছে না।”
একটি হাতির বাচ্চাকে জলের স্রোত থেকে কোনওরকমে টেনে বের করে বাঁচানো হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক গণ্ডার ও এক বাইসনের। এদিকে, এতটা জল জমে যাওয়ায় গাড়ি নিয়ে জঙ্গলের গভীরে ঢোকাও অসম্ভব। পলি জমে চাকা স্লিপ করছে। তাই আপাতত নজরদারির ভরসা হাতি। হাতির পিঠে চড়েই চলেছে উদ্ধার ও নজরদারির কাজ।
সোমবার থেকেই উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রয়েছেন বনমন্ত্রীও। সোমবার তিনি জঙ্গলে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু সম্ভব হয়নি। বনমন্ত্রী জানালেন, “ভিতরে না গেলে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বোঝা যাবে না। আপাতত চেষ্টা চলছে, কিন্তু আমাদের লোকবল কম। যতটা পারছি, লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
আলিপুরদুয়ারেও একই চিত্র। বহু এলাকা এখনও জলমগ্ন। কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ায় হলং-সহ একাধিক পর্যটনস্থলে যাতায়াত বন্ধ। পর্যটকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবে গরুমারায় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল।
বনমন্ত্রী আশাবাদী, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে এখনই কিছু বলা কঠিন, কারণ যতক্ষণ না জঙ্গলের গভীরে পৌঁছনো যাচ্ছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বোঝা যাচ্ছে না।”
উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের ক্ষতির পর এ বার বিপন্ন বনাঞ্চল ও তার বাসিন্দারাও। জল, ধস আর পলির মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে প্রকৃতি যেন নিজেরই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো লড়ছে মানুষ, বনকর্মী আর জঙ্গলের নীরব রক্ষাকারী হাতি, গণ্ডারেরা!