এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চা শিল্পের জন্য যে শুধুই বড় ধাক্কা নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের সূচনাও

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স জুড়ে যেন নিস্তব্ধতা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত চা-বাগানগুলির নিঃশব্দ আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে গোটা এলাকা। প্রশাসন সূত্রের খবর, গত শনিবারের অতি বৃষ্টি ও ধসের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টিরও বেশি চা বাগান। চা শিল্পে এক কথায় সর্বনাশ।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নাগরাকাটার ১৬০০ হেক্টরের চ্যাংমারি টি এস্টেটে। সেখানে ডায়না নদীর জল ঢুকে ফ্যাক্টরিতে রাখা ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন বাগানে ভুটান থেকে আসা জলে মিশে আসছে ডলোমাইট। শুভাষিণী চা বাগানে প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে জমে গিয়েছে সেই ধূসর বিষ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই জমিতে আর চা চাষ করা সম্ভব নয়।
আলিপুরদুয়ারের বামনডাঙা টন্ডু চা বাগান সম্পূর্ণ জলের তলায়। এই তালিকায় আরও বহু নাম— প্রতিটিই যেন উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের এক একটি ক্ষতবিক্ষত অধ্যায়।
সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারও দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার। যদিও এই বিপর্যয়ের গভীরতা, দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে চা মহলে।
প্রবল বৃষ্টিপাত, ধস এবং ভুটান থেকে আসা জলবাহী পলি— এই ত্রিধারায় চা বাগানগুলির যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হল, তা কাটিয়ে উঠতে সময় তো লাগবেই, তবে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয়ে শ্রমিক থেকে মালিকপক্ষ, সকলেই।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চা শিল্পের জন্য যে শুধুই বড় ধাক্কা নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের সূচনাও, সেই আশঙ্কাতেই কাঁপছে উত্তরবঙ্গ।