দুর্যোগে ভেঙে যাওয়া অন্যান্য সেতুগুলিও নতুন করে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধস ও বন্যা পরিস্থিতির জেরে চরম দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মিরিক পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee to visit landslide-hit North Bengal)।
সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, মিরিকের দুধিয়ায় ১৫ দিনের মধ্যে তৈরি করে দেওয়া হবে একটি অস্থায়ী সেতু, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার হয় (Temporary bridge to be built in Mirik within 15 days)। পাশাপাশি স্থায়ী সেতু তৈরির কাজও চলবে, যা সময় নেবে প্রায় এক বছর। এজন্য রাজ্যের ব্যয় হবে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।
প্রথমে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা জানিয়েছিলেন, অস্থায়ী সেতু তৈরি করতে সময় লাগবে এক মাস। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের কষ্ট এক দিনও মেনে নিতে পারি না। তাই ১৫ দিনের মধ্যে এই সেতু তৈরি করতেই হবে।”
এমনকী দুর্যোগে যে সব মানুষের পরিচয় পত্র, সহ যাবতীয় ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাও দ্রুত করে দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
শনিবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ধস নামে, নদী উপচে জল ঢোকে জনবসতিতে। রবিবার থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলেন। ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। সোমবার দুপুরে নিজে উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যান। প্রথমে হাসিমারা, পরে নাগরাকাটায় দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কাছে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে— যার মধ্যে ১৮ জন মিরিক, কালিম্পং অঞ্চলের ও ৫ জন নাগরাকাটার। মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের এক জনকে হোমগার্ডের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকা জীবনের বিকল্প নয়। কিন্তু আমরা চাই, এই কঠিন সময়ে যেন কেউ মুখাপেক্ষী হয়ে না-থাকেন। তাই সরকারের তরফ থেকে এটুকু সহযোগিতা করা আমাদের সামাজিক কর্তব্য।”
দুর্যোগে ভেঙে যাওয়া অন্যান্য সেতুগুলিও নতুন করে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মিরিককে ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা’ বলে চিহ্নিত করে দ্রুত পুনর্বাসন ও পরিকাঠামো নির্মাণের নির্দেশও দেন তিনি।