মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্র আমাদের বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য কোনও টাকা দেয় না। এমনকী গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানও বন্ধ করে দিয়েছে। এটা বাংলার প্রতি বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়।’’

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতের অতি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ (Disaster in North Bengal)। একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভেঙে পড়েছে একাধিক সেতু, বহু ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়েছে জলে। ঠিক সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার উত্তরবঙ্গে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee) ফের তুললেন ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠনের দাবি (Indo-Bhutan River Commission)। সঙ্গে জানালেন, ওই বিষয়ে আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Modi) চিঠি দিলেও কোনও জবাব পাননি।
দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে মৃত্যুর প্রসঙ্গে রবিবার টুইটারে পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা দাবি, ‘‘উত্তরবঙ্গে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের কারও মৃত্যু সেতু ভেঙে হয়নি। আপনারা যা শুনেছেন, তা সত্য নয়। ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।’’
এরপরই ইন্দো-ভুটান নদী কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বহু বার বলেছি— ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন হওয়া উচিত। না হলে উত্তরবঙ্গ বারবার এমন দুর্যোগে পড়বে। ভুটানে ৫৬টি নদী, সিকিমে গড়ে উঠেছে ৪০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ফলে বিপুল জল আচমকাই নেমে আসে উত্তরবঙ্গে।’’
উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিমানে পৌঁছে যান জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার— তিন জেলাতেই। ঘুরে দেখেন বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা, কথা বলেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে। শোনেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যন্ত্রণার কথাও।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের এই বন্যা পুরোপুরি ‘ম্যান মেড’। বলেন, ‘‘ভুটান-সিকিম থেকে জল এসেছে, সঙ্গে ১২ ঘণ্টায় টানা ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি। এত জল কোথায় যাবে? আমরা বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশের জল সহ্য করি। আর কত করব?’’
ডিভিসি থেকে জল ছাড়াও নিয়ম মেনেই হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘‘দক্ষিণবঙ্গ ডিভিসির জলে ভেসে যায়, উত্তরবঙ্গ ভাসে পাহাড়ি ঢলে। কেন্দ্রীয় কোনও সহযোগিতা নেই। এমনকী ফরাক্কা বাঁধের ড্রেজিংও ঠিক মতো হয় না।’’
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্র আমাদের বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য কোনও টাকা দেয় না। এমনকী গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানও বন্ধ করে দিয়েছে। এটা বাংলার প্রতি বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়।’’
এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির জবাব এবার আদৌ আসে কি না। না কি উত্তরবঙ্গের জল নিয়ে রাজনীতি আরও ঘনীভূত হয়।