মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মুকুল রায়
শেষ আপডেট: 23 February 2026 06:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত মুকুল রায়। বয়স হয়েছিল ৭১। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। ছেলে শুভ্রাংশু বাবার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।
মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন অনুরাগীরা।
বেশ কয়েক মাস ধরেই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।
মুকুল রায় তৃণমূলে এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের রেল মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।
পরে দলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় ও ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।
ছেলে শুভ্রাংশু রায় এদিন এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবা মারা গিয়েছেন। আপাতত তিনি কাঁচরাপাড়ায় রয়েছেন। সেখান থেকে কলকাতায় যাবেন। হাসপাতালে পৌঁছে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানাবেন।
বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে শাসক–বিরোধী ভেদাভেদ ভুলে শোকবার্তা দিতে শুরু করেছেন বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আজ স্মরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তাঁর বিদায় নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় শূন্যতা তৈরি করল।