এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়. এই চারজনকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুকুল রায়।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুল রায়ের (Mukul Roy ,MLA post) বিধায়কপদ খারিজের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টের ওই রায়ে শুক্রবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ (stays order) দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court,)। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
পাশাপাশি এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়. এই চারজনকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ওই রায়ে শুধু মুকুলের বিধায়কপদই খারিজ হয়নি, বাতিল হয়ে যায় বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের সিদ্ধান্তও। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার পর ১১ জুন মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই ঘটনার পরই দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁর বিধায়কপদ খারিজের আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, ‘দলত্যাগী’ হয়েও মুকুলকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান করা হয়েছে— এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়।
অন্যদিকে, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন খারিজ করে জানান, মুকুল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য। ফলে তাঁর বিধায়কপদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যায় বিরোধীরা। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট অধ্যক্ষের ওই রায় বাতিল করে মুকুলের বিধায়কপদ খারিজের নির্দেশ দেয়।
এই মামলায় বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনিই প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও কীভাবে মুকুল রায় পিএসি চেয়ারম্যান থাকতে পারেন। প্রথা অনুযায়ী, এই পদ বিরোধী দলের বিধায়কের জন্য সংরক্ষিত থাকে বলেই দাবি করেন তিনি।
২০২৩ সালে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুকুল রায় কার্যত তৃণমূলের হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত, যা দলত্যাগ বিরোধী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অধ্যক্ষ পুনর্বিবেচনার পরেও অবস্থান বদলাননি। শেষমেশ হাইকোর্টের নির্দেশে বিধায়কপদ খারিজ হয় মুকুলের।
এ বার সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক খারিজের ব্যাপারে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক টানাপড়েন অব্যাহত রইল।