সেবাশ্রয় দেখেই যাঁরা ভীত, সন্ত্রস্ত, তাঁদের কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে-নন্দীগ্রামে নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ অভিষেকের।
.jpeg.webp)
সেবাশ্রয়ে অভিষেক।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) খাসতালুকে (বিধানসভা এলাকায়) দাঁড়িয়ে সেবাশ্রয় (Sevashray) নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের (Nandigram) দু’টি ব্লকে সেবাশ্রয় কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, মানুষ সুযোগ দিলে প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “কারও বুকের পাটা থাকলে আটকে দেখাক।”
সেবাশ্রয়ের অর্থের জোগান নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তোলা প্রশ্নের জবাবে নাম না করে তাঁকে নিশানা করেন অভিষেক। বলেন, “আপনি হিসেব নেওয়ার কে? হিসেব নেবে হাইকোর্ট, ইনকাম ট্যাক্স। ক্ষমতা থাকলে মামলা করুন। কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবেন না।”
এখানেই না থেমে আরও কটাক্ষ, “বুক ঠুকে বলছি, প্রতি বছর এই নন্দীগ্রামে ১৭টা ক্যাম্প করব। আর শুভেন্দু অধিকারী থেকে তাঁর পরিবারের লোকজনও সেবাশ্রয়ে এসে চিকিৎসা করাবেন (Suvendu Adhikari's family members will come to the hospital in the coming days for treatment)।”
কেন নন্দীগ্রামেই সেবাশ্রয়, এই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক জানান, গত অক্টোবরে এক ডাকে ‘অভিষেক হেল্পলাইনে’ সবচেয়ে বেশি ফোন এসেছিল নন্দীগ্রাম থেকেই। তাঁর দাবি, এই এলাকায় তৃণমূলের কোনও সাংসদ বা বিধায়ক নেই, মানুষের প্রত্যাশা তাই আরও বেশি। “তাঁদের ফেরাতে পারি না,” বলেন তিনি।
একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে একটি মডেল ক্যাম্প হবে এবং দু’টি ব্লকে ডায়মন্ড হারবারের ধাঁচে আরও ১৭টি সেবাশ্রয় ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। প্রয়োজনে বালুরঘাটেও (সুকান্ত মজুমদারের নির্বাচনী ক্ষেত্র) এমন ক্যাম্প হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ডায়মন্ড হারবারের পর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ের আয়োজন ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, “যাঁরা হোর্ডিং-ব্যানার ছিঁড়ছেন, তাঁদের রাজনৈতিকভাবে পায়ের মাটি সরে গিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নিজের এলাকায় বিরোধীরা এমন কর্মসূচি করলে তিনি রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানাতেন।
সেবাশ্রয়ের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন অভিষেক। কমিশনকে বিজেপির ‘সহকারী সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন, “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি শুধু বাংলাতেই কেন? সেই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন?” মুখ্যমন্ত্রী আগেই এই দাবি তুলেছেন বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ না হলে আন্দোলন হবে, আর সেই আন্দোলন রোখার ক্ষমতা কারও নেই।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, “আন্দোলন এখনও শুরু হয়নি। শুরু হলে কমিশন বুঝবে বাংলার মাটির ক্ষমতা।” তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ৮২ জনের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিএলওদের ইস্তফা দিতে বলা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আগে কমিশনেরই ইস্তফা দেওয়া উচিত। সঙ্গে চ্যালেঞ্জ, “ক্ষমতা থাকলে আমার নামে এফআইআর করুন।”
এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ভাবে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও রিসোর্সের অভাবে বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা এসআইআর-এর বিরোধী নই। হোক, তবে সময় নিয়ে, পরিকল্পনা করে।”
শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ের খবর পেয়ে তিনি নভেম্বর মাসে কয়েক দিনের জন্য স্বাস্থ্যশিবির করেছিলেন, বন্ধও করে দিয়েছিলেন। পোস্টার দেখার পর আবার একটা করেছেন। “ছ’ বছর বিজেপিতে থেকে কী এনেছেন?”—এই প্রশ্ন তুলে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। কেরলে নিহত ভীমচন্দ্র বারিকের পরিবারের পাশে বিজেপি দাঁড়ায়নি বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, পাশে ছিল তৃণমূলই।
শেষে পূর্ব মেদিনীপুরে এসআইআর ঘিরে মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে অভিষেকের তোপ, “মুখে হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে, আর কার্যত হিন্দুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়!”