এই শুভেন্দুই মুকুলের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে মামলা করেছিলেন। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) করতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়
শেষ আপডেট: 13 November 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "সংবিধানের জয় হয়েছে। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) তাঁর চেয়ারকে অমর্যাদা করেছেন, সংবিধান মানেনি। আমি তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি।" দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ খারিজ হতেই বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনা হল, এই শুভেন্দুই মুকুলের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে মামলা করেছিলেন। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) করতে হবে। সেই মামলাতেই বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রসিদির বেঞ্চ বিধায়ক পদ খারিজ করে দেয়।
দ্য ওয়াল এ ব্যাপারে শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, "২০১১ সাল থেকে ৫০ জন বিধায়ককে এইভাবে রেখেছেন স্পিকার বিমান। কংগ্রেস-সিপিএম পারেনি, আমরা চার বছর ধরে লড়াই করে সংবিধানের মর্যাদারক্ষা করেছি।"
তাহলে কি আরও বিধায়কদের জন্যেও এমন কিছু অপেক্ষা করছে? শুভেন্দুর জবাব, "আমরা ইমিডিয়েট আদালতে যাচ্ছি। সুমন কাঞ্জিলাল, তাপসী মণ্ডল, এবং তন্ময় ঘোষের ব্যাপারে। মুকুলের মতো অন্যদের ক্ষেত্রেও এক যাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না। আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে তিনজন তৃণমূলের মিটিংয়ে যাচ্ছেন। বক্তৃতা করছেন। তৃণমূলের পদাধিকারী হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন। এরকম ভূরি ভূরি অডিও, ভিডিও আছে। আদালতে প্রমাণ করে দেব।"
শুভেন্দু বলেন, "আজকের এই রায়, ল্যান্ডমার্ক হয়ে থাকল। বিজেপি আমায় বিরোধী দলনেতা করেছে কেন? কংগ্রেস-সিপিএম পারেনি, আমি দীর্ঘ চার বছর ধৈর্য ধরে, লড়াই করে এটা পেরেছি।"
অন্যদিকে, মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে ফোন করা হলে প্রথমে ফোন বেজে যায়। পরে তিনি নিজেই ফোন করে জানালেন, "এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।"
২০২১ সালে এই বিতর্কের সূচনা। বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ ছিল, বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হয়েও মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দিয়ে দলত্যাগ করেছেন, তবু তাঁকেই করা হয়েছে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান। প্রথাগত এই পদটি বিরোধী দলের বিধায়কের জন্য বরাদ্দ থাকে। তাই মুকুলের চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অম্বিকা।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তখন জানান, মুকুল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য, তাই তাঁর পদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু বিরোধীরা এই যুক্তি মানেনি।
২০২৩ সালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে মামলা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মুকুল রায় তৃণমূলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, যা দলত্যাগ বিরোধী আইনের লঙ্ঘন। হাইকোর্ট তখন অধ্যক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়।
অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়া সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরও তিনি জানান, মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিরোধীরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হলে বৃহস্পতিবার আদালত রায় দেয় বিরোধীদের পক্ষেই।
এই রায়ের ফলে বঙ্গে প্রথমবার কোনও বিধায়কের পদ খারিজ হল দলত্যাগ বিরোধী আইনের ভিত্তিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিজেপির টিকিটে জিতে অন্য দলে যোগ দেওয়া একেবারেই সাংবিধানিক বিধির পরিপন্থী। ফলে, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ বাতিল করা হল আইন অনুযায়ীই।