দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।

মুকুল রায়
শেষ আপডেট: 13 November 2025 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন ঘটনা বঙ্গ রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায়নি। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।
'২১ সালের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর ১১ জুন মুকুল বিজেপি (BJP) ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘দলত্যাগী’ মুকুলকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান করার বিরোধিতা করে একটি মামলাও সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়।
অন্যদিকে, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের মামলায় রায় দিয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন খারিজ করে তিনি জানিয়েছিলেন, মুকুল বিজেপিতেই আছেন। তাই তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করা হচ্ছে না। কিন্তু, বৃহস্পতিবার বিমানের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুসারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধীদের করা আবেদন খতিয়ে দেখে আদালত শুধু মুকুলের বিধায়ক পদই খারিজ করেনি, বাতিল করেছে বিধানসভার অধ্যক্ষের আগের সিদ্ধান্তও।
২০২১ সালে এই বিতর্কের সূচনা। বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ ছিল, বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হয়েও মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দিয়ে দলত্যাগ করেছেন, তবু তাঁকেই করা হয়েছে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান। প্রথাগত এই পদটি বিরোধী দলের বিধায়কের জন্য বরাদ্দ থাকে। তাই মুকুলের চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অম্বিকা।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তখন জানান, মুকুল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য, তাই তাঁর পদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু বিরোধীরা এই যুক্তি মানেনি।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত
২০২৩ সালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে মামলা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মুকুল রায় তৃণমূলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, যা দলত্যাগ বিরোধী আইনের লঙ্ঘন। হাইকোর্ট তখন অধ্যক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়।
অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়া সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরও তিনি জানান, মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিরোধীরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হলে বৃহস্পতিবার আদালত রায় দেয় বিরোধীদের পক্ষেই।
এই রায়ের ফলে বঙ্গে প্রথমবার কোনও বিধায়কের পদ খারিজ হল দলত্যাগ বিরোধী আইনের ভিত্তিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিজেপির টিকিটে জিতে অন্য দলে যোগ দেওয়া একেবারেই সাংবিধানিক বিধির পরিপন্থী। ফলে, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ বাতিল করা হল আইন অনুযায়ীই।