বিএলও নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি ও রিপোর্টে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির জানায়, তারা বিশেষভাবে ৬৫ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু কমিশন সেই অভিযোগকে ‘যথাযথ নয়’ বলে জানিয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 12 November 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে (West Bengal) এসআইআরের (SIR) কাজ পুরোদমে চলছে। বাড়ি বাড়ি বিএলও অভিযানে (BLO) এখনও পর্যন্ত ৭ কোটির বেশি এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলি হয়ে গেছে। কিন্তু বিতর্ক থামছে না। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। আদালতে মামলাও করেছে। আর বিজেপি (BJP) স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের পাল্টা দাবি করেছে ভুয়ো ভোটার (Fake Voter) ইস্যুতে। সেটা নিয়েই বুধবার সিইও দফতরে (CEO Office) গিয়ে 'প্রমাণ' দেখালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বিজেপি প্রথম থেকেই দাবি করেছে, বহু ভুয়ো ভোটার তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। তাই এসআইআরের বিরোধী তাঁরা। এই অভিযোগ কতটা সত্যি তার 'প্রমাণ' দিতেই বুধবার তথ্য জমা দিতে সিইও অফিসে এসেছিলেন শুভেন্দু। বিপুল নথি জমা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন - ভোটার তালিকায় ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ডবল এন্ট্রি (Double Entry) রয়েছে। সেই তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবই দেওয়া হয়েছে কমিশনে।
শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার নাম রয়েছে যাদের ডবল বা ট্রিপল এন্ট্রি রয়েছে। কিন্তু অন্য ইস্যুতে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনাও করেছেন তিনি। অভিযোগ, ৫ হাজার ৭০০ বিএলও-র রাজনৈতিক পরিচয়সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট দেয়নি। বিজেপির তরফে এও দাবি করা হয়েছে, কমিশন জানিয়েছে তারা ৭০ শতাংশ রিপোর্ট পেয়েছে, তবে তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আরও জানান হয়েছে, এ পর্যন্ত ৩০০ জন বিএলও বদলি করা হলেও মূল অভিযোগের সুরাহা হয়নি।
কার্যত বিএলও নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) কার্যপদ্ধতি ও রিপোর্টে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিজেপি (BJP)। গেরুয়া শিবির জানায়, তারা বিশেষভাবে ৬৫ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু কমিশন সেই অভিযোগকে ‘যথাযথ নয়’ বলে জানিয়েছে।
তবে বিজেপির অভিযোগ, আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত কিছু ইআরও ও এইআরও-কে (ERO, AERO) সতর্ক করা প্রয়োজন। দলের দাবি, অনেক জায়গায় বিজেপির বিএলএ-২ কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এছাড়া দলের বক্তব্য, “পুলিশের আচরণ তৃণমূল ক্যাডারের মতো।”
বিজেপি কমিশনের কাছে বিএলও-বিএলএ সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তবে আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৫২ হাজার বিএলএ পরিচয়পত্র, বিজেপি পেয়েছে ৪৮ হাজার, কংগ্রেস ও সিপিএম মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার করে।
মৃত ভোটার নিয়ে বিজেপি দাবি করেছে, নন-আধার মৃতের সংখ্যা ১৩ লক্ষ, আধার-সংযুক্ত মৃতের সংখ্যা ৩৩ লক্ষ। এই তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির দাবি, যাদের ভাতা বন্ধ হয়েছে (যেমন মৃত ভোটারদের), সেই তথ্য সরকার থেকে কমিশন যেন সরাসরি সংগ্রহ করে।
সিইও অফিসে বসে ভুয়ো ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি হুঁশিয়ারি - যারা জল মিশিয়ে ভোটার তালিকায় থাকার চেষ্টা করছেন, তাদের কপালে দুর্ভোগ আছে।
এক্ষেত্রে কমিশনের সব কাজ নিয়েও যে তারা সন্তুষ্ট নয় সে কথাও স্পষ্ট করেছে বিজেপি। এমনকী কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারবে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে তাদের তরফে।