আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকেই নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 November 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ (Bangladesh), পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিভিন্ন জেলে আটক সংখ্যালঘু (Minority Prisoners) বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মতামত জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকেই নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের বন্দিদের বিষয়ে দেশে কী আইন রয়েছে এবং কীভাবে তাদের মুক্তি বা সুরাহা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কুমার জ্যোতি তিওয়ারি জানান, কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়ে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন জেলে আটকে রাখা যায় না। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, এমন বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নিম্ন আদালতে নানা কারণে তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কেন্দ্রের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “যাঁরা এই আইনের আওতায় পড়ছেন, তাঁদের বিষয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? বর্তমানে তাঁরা জেলে রয়েছেন - এই পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?” উত্তরে কেন্দ্রের আইনজীবী জানান, রাজ্য সরকার আগে জানাক কতজন বন্দি এই শ্রেণির আওতায় পড়ছেন। রাজ্যের তরফে সেই তথ্য পাওয়া গেলে কেন্দ্র পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে এখনও এই সংক্রান্ত কোনও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি, যদিও আইন অনুযায়ী সেই ট্রাইব্যুনাল তৈরির কথা।
আদালতের নির্দেশ, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কতজন সংখ্যালঘু বন্দি ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে এসেছেন এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।