কাশীপুর (Kashipore) ব্লকের কাদুড়ি গ্রামে অজ্ঞাত জন্তুর হানা, আর বরাবাজার-বলরামপুর এলাকায় দলছুট দাঁতাল হাতির দাপট। দু’টি ঘটনায় চরম উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে বন দফতর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই জেলায় দু’ধরনের বন্যপ্রাণী (Wild Life) আতঙ্ক। কাশীপুর (Kashipore) ব্লকের কাদুড়ি গ্রামে অজ্ঞাত জন্তুর হানা, আর বরাবাজার-বলরামপুর এলাকায় দলছুট দাঁতাল হাতির দাপট। দু’টি ঘটনায় চরম উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে বন দফতর।
কাদুড়িতে রাতের হানা
শুক্রবার গভীর রাতে কাদুড়ি গ্রামে একটি পরিবারের গোয়ালে বাঁধা ভেড়ার উপর হামলা চালায় অজানা জন্তু। পায়ের ছাপ দেখে বোঝার উপায় নেই আগন্তুক কে! সকালে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, ৯টি ভেড়া মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জখম হয়েছে আরও ৯টি ভেড়া ও একটি ছাগল। একাধিক পশুর শরীরে গভীর নখের আঁচড়, কারও পেট বা গলা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জয়ন্ত রাউত জানান, সকালে গোয়ালে গিয়ে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে পরিবার ও প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দফতর ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের আধিকারিকেরা।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ আধিকারিক অরুণাংশু দে বলেন, “৯টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। সমসংখ্যক ভেড়া এবং একটি ছাগল আহত। কোন জন্তুর আক্রমণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক অনুমান, একাধিক বন্যপ্রাণী জড়িত থাকতে পারে।” মৃত পশুগুলির ময়নাতদন্তের (Post Mortem) রিপোর্ট এলে স্পষ্ট হবে কারণ।
কাশীপুরের রেঞ্জারের কথায়, নেকড়ে বা শিয়ালের আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। গ্রাম লাগোয়া জঙ্গল থেকেই জন্তুটি ঢুকেছে বলে মনে করছেন বনকর্মীরা। ইতিমধ্যে এলাকা থেকে পায়ের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। রাতের দিকে বনকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে।
বড়বাজারে দাঁতালের গতিবিধি
অন্যদিকে, শুক্রবার মধ্যরাতে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) সীমান্ত পেরিয়ে একটি দাঁতাল হাতি পুরুলিয়ার বড়বাজার রেঞ্জে ঢুকে পড়ে। মেটালা হয়ে দমদা পেরিয়ে সেটি বলরামপুর রেঞ্জ এলাকায় পৌঁছয়। শনিবার বিকেলে দড়দা এলাকায় হাতিটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতিটিকে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা হলে সেটি জাতীয় সড়ক পেরিয়ে বলরামপুর ব্লক সদরের দিকে অগ্রসর হয়। সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে এলাকায় মাইকে প্রচার চালিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
এক বন আধিকারিক জানান, হাতিটির চলাচলের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপদে তাকে ঝাড়খণ্ডে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
দু’টি ঘটনাই গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। বন দফতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিশেষ করে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রাতের দিকে বাইরে বেরোনো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর প্রশাসন।