স্থানীয় লোককথাকে আরও উস্কে দেয় একটি তথ্য, যে ঘরে তরুণী ঘুমোতেন, তার মেঝেতে একটি সাপের গর্তও পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, আগেও মাঝে মাঝে ওই ঘরে সাপ দেখা গিয়েছিল।

শেষ আপডেট: 10 February 2026 21:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) ঔরাইয়া জেলার এক শান্ত, নির্ঝঞ্ঝাট গ্রাম সিঙ্গনপুর। সেখানে ঘনিয়ে এল এবার বিপত্তির ছায়া। ২০ বছরের এক তরুণীর হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা (Auraiya Missing Woman mystery) ঘিরে ছড়াল রহস্য, কুসংস্কার। শুরু হল জোর তল্লাশি। গ্রামের ওই তরুণী প্রতিদিনের মতোই রবিবার রাতে নিজের ঘরে ঘুমোতে যান। পরের দিন সকালে তাঁর মা ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘর খালি। কিন্তু বিছানায় যা দেখা গেল, তাতেই চমকে ওঠেন তিনি।
তরুণীর পরনের গতরাতের পোশাক ও গায়ের গয়না সুন্দর করে রাখা আছে বটে, আর ঠিক তার পাশেই প্রায় ৫ ফুট লম্বা সাপের খোলস। খবর ছড়াতেই গ্রামে শুরু হয়ে যায় ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’ গুজব (Ichchadhari naagin rumour UP)। স্থানীয় লোককথাকে আরও উস্কে দেয় একটি তথ্য, যে ঘরে তরুণী ঘুমোতেন, তার মেঝেতে একটি সাপের গর্তও পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, আগেও মাঝে মাঝে ওই ঘরে সাপ দেখা গিয়েছিল (Auraiya missing woman snake rumour)।
“আমরা বিধ্বস্ত। আমাদের মেয়েকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিন,” কাঁদতে কাঁদতে সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেদন জানান তরুণীর পরিবার।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অজিতমল সার্কেল অফিসার মনোজ গঙ্গওয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ। “বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৭ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মেয়েটিকে খুঁজে বের করতে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
গ্রাম যখন অলৌকিক ব্যাখ্যায় মশগুল, পুলিশ তখন স্পষ্ট ভাষায় গুজব উড়িয়ে দিয়েছে।
‘সাপ’ প্রসঙ্গে গঙ্গওয়ার বলেন, “মহিলা সাপে রূপান্তরিত হয়েছেন - এ সবই গুজব। সাপের খোলস ও পোশাক একসঙ্গে পাওয়া যাওয়া তদন্তকে ভুল পথে চালিত করা বা বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেও হতে পারে।”
পুলিশ বাড়ির মোবাইল ফোনগুলিও বাজেয়াপ্ত করেছে। কল রেকর্ড ও ডিজিটাল সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তরুণী নিজেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন, নাকি প্রেমঘটিত কোনও কারণে তাঁর এই হঠাৎ অন্তর্ধান, সেই সন্দেহও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।