তামান্না খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর।

শেষ আপডেট: 26 June 2025 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার কালীগঞ্জে (Kaliganj) বোমার আঘাতে ১০ বছরের নাবালিকা তামান্না খাতুনের (Tamanna Khatun) মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। এ ঘটনায় তাঁকে শোকজ করল তৃণমূল কংগ্রেস। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কাছে চাওয়া হয়েছে লিখিত জবাব।
বুধবার তামান্নার বাড়িতে গিয়েছিলেন হুমায়ুন। সেখানে মৃত কিশোরীর মাকে আর্থিক সহায়তা দিতে চাইলে তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন মা সাবিনা বিবি। চিৎকার করে তিনি জানান, ‘‘আমাদের টাকার প্রয়োজন নেই, আমি আমার মেয়ের ন্যায়বিচার চাই।’’
ঘটনার পরেই শুরু হয় রাজনৈতিক জলঘোলা। অভিযোগ, দলের রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়েই হুমায়ুন সটান নাবালিকার বাড়িতে চলে যান। এমনকি অর্থসাহায্যের সিদ্ধান্তও নেন এককভাবে। ফলে তাঁর আচরণ ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার তাঁকে শোকজ করার কথা জানান রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার (Jay Prakash Majumder)। যদিও দলের তরফে এখনও তিনি চিঠি পাননি বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন।
উল্লেখ্য, ১৯ জুন কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ফল ঘোষণার আগেই তৃণমূলের বিজয় মিছিলে বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া সেই বোমাতেই প্রাণ হারায় ক্লাস ফোরের পড়ুয়া তামান্না। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছে তাদের মেয়ে, কারণ তাঁদের সমর্থন সিপিএমের দিকে।
হুমায়ুন কবীর অবশ্য জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং এক অরাজনৈতিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন তামান্নার বাড়িতে। অর্থসাহায্য সেই সংগঠনের তরফ থেকেই করা হচ্ছিল বলে তাঁর দাবি। তা সত্ত্বেও, পরিবারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়ক হিসেবে অন্য জেলার একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় রাজ্য নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে নিজে থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়া দলের অন্দরে ভালভাবে নেওয়া হয়নি। দলের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মূল সংগঠনের তরফ থেকেই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।