ছন্দে ফিরছে পাহাড়। খুলে যাচ্ছে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র। শুধু পাহাড়ে নয়, ডুয়ার্সেও দরজা খুলেছে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ে ইতিউতি ধস নামলেও তা এমন কিছু মারাত্মক নয় বলেই জানাচ্ছেন পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

ছন্দে ফিরছে পাহাড়।
শেষ আপডেট: 10 October 2025 18:14
ছন্দে ফিরছে পাহাড়। খুলে যাচ্ছে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র। শুধু পাহাড়ে নয়, ডুয়ার্সেও দরজা খুলেছে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ে ইতিউতি ধস নামলেও তা এমন কিছু মারাত্মক নয় বলেই জানাচ্ছেন পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
গত শনিবার ভয়াবহ ধসে বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক মহকুমার পেডং, রামডাং ও লাভা ব্লক। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন। এখনও বিচ্ছিন্ন মিরিকের কিছু অংশ, বিশেষ করে দুধিয়া হয়ে মিরিক যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে। তবে ঘুম ও সোনাদা হয়ে মিরিক যাওয়া যাচ্ছে।
তবে দুর্গাপুজোর ঠিক পরে এই ধসের ঘটনায় পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব পড়লেও, দ্রুত গতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুর অপারেটররাও আশ্বাস দিচ্ছেন, পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। দার্জিলিং ওঠানামার মূল সড়ক হিলকার্ট রোড ও পাঙ্খাবাড়ি রোড সম্পূর্ণ চালু। খোলা দার্জিলিং-মিরিক রুট। দার্জিলিং- কালিম্পং রুটও খোলা। খোলা রয়েছে শিলিগুড়ি-কালিম্পং বিকল্প সড়ক এনএইচ ৭১৭এ, শিলিগুড়ি-লাভা-রামধুরা-রংপো সড়ক খোলা।
ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, "পাহাড় একেবারে বিধ্বস্ত নয়। কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, পাহাড়ের বেশিরভাগ অঞ্চলই এখন পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। কালিম্পং ও সিকিমও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। শিলিগুড়ি-মংপু-সিটং, শিবখোলা-সিটং, জোড়বাংলো-তাকদা, সব রাস্তাই খোলা। ডুয়ার্স এলাকার সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন চালসা, লাটাগুড়ি, মাদারিহাট, ফালাকাটা, গরুমারা, বক্সা প্রভৃতি রুটও স্বাভাবিক। লাভা থেকে লোলেগাঁওয়ের রাস্তাও খোলা রয়েছে।"
তিনি জানান, দার্জিলিং ও আশেপাশের টাইগার হিল, রক গার্ডেন, দার্জিলিং ম্যাল, লেপচাজগত, চটকপুর, দার্জিলিং চিড়িয়াখানা সব জায়গাতেই ঘুরতে যেতে পারবেন পর্যটকরা। যাওয়া যাবে দাওয়াইপানি, কাফেরগাঁও, লিংডিং, রিম্বিক, লোধামা বা ধোতরে। পর্যটকরা চাইলে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি, গরুমারা, মাদারিহাট, চালসা, সামসিং, সুন্তালেখোলাও পৌঁছে যেতে পারবেন। মিরিক ও তাবাকোশির কিছু অংশে সাময়িক সমস্যা থাকলেও, উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জায়গা এখন নিরাপদ বলে দাবি করেছেন তিনি। তাই শীত আসার আগে মনোরম আবহাওয়ায় পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের ডাক দিচ্ছেন তাঁরা।