রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন - এটা সত্যের জয়। তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা না করলেও প্রত্যক্ষ আক্রমণে গেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী।

অরূপ চক্রবর্তী এবং ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 3 December 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় (Cancellation of 32,000 Primary School Jobs) কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court) সবার চাকরি বহাল রেখেছে। অর্থাৎ তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhayay) যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা খারিজ হয়েছে। এই রায় শুনেই বিজেপিকে নিশানা করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন - এটা সত্যের জয়। তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা না করলেও প্রত্যক্ষ আক্রমণে গেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)।

তাঁর বক্তব্য, ঢাকি সমেত বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন হয়েছে। তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেছেন, তিনি বিচারপতি ছিলেন না বিজেপির দালাল ছিলেন - সেটা আজ স্পষ্ট হয়েছে।
অরূপের দাবি, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুধুমাত্র চাকরি খাওয়ার জন্য রায় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বাংলা বিরোধীরা, কাক-চিল-শকুনের মতো অপেক্ষা করছিলেন রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নষ্ঠ হওয়ার, মেরুদণ্ড ধ্বংস হওয়ার। কিন্তু আজকে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে তাতে প্রমাণ হয়েছে যে, রাজ্যের নিয়োগ সঠিক ছিল। এতে বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে কেবল যোগ্য প্রার্থীরাই চাকরি পাবেন। কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পর্ষদ যায় ডিভিশন বেঞ্চে।
কিন্তু এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ 'ঢাকি সমেত বিসর্জন' - উক্তিটি করলেন কেন অরূপ? আসলে ২০২২ সালে ২০১৬-র প্রাথমিকে ভুয়ো নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় (2016 Primary Recruitment Case) তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মন্তব্য করেছিলেন।
ঠিক কী যুক্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এভাবে ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্য়য় নেমে আসতে পারে। তাদের পরিবার বড় সমস্যার মুখে পড়বে।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ - দুর্নীতির তদন্ত যেমন চলছে চলবে। কিন্তু এভাবে চাকরি বাতিল করে দিল সব প্রার্থীর গায়ে কলঙ্কের ছিটে লেগে যাবে। একইসঙ্গে বিচারপতিদের এও বক্তব্য, চাকরি করার সময়কালে এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। এছাড়া এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যে পরীক্ষকদের বেশি নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর কয়েকজন অসফল প্রার্থীর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে দেওয়া যেতে পারে না।