প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের (WB Assembly Election 2026) আগে আর চার মাসও বাকি নেই। তার আগে প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরির মামলা (32000 primary teacher case) নিয়ে উৎকণ্ঠার প্রহর গুণছিল শাসক দল তৃণমূল (TMC)। কারণ, একেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) রায়ের ধাক্কায় স্কুল সার্ভিসের (SSC) প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি গিয়েছে। তার উপর আরও ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাকাপাকি বাতিল হলে ভোটের আগে নতুন ঝড় আছড়ে পড়তে পারে।
সেদিক থেকে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata Highcourt) রায় বড় স্বস্তি দিল শাসk দলকে। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকবে। দুর্নীতির তদন্ত যেমন চলছে তা চলবে, কিন্তু কারও চাকরি যাবে না।
এদিন হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পরই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে এই রায় ঘোষণা করেছিলেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। বিচারপতির পদে থেকে তাঁর মনে ছিল বিজেপিতে (BJP)। তিনি হাইকোর্টের চেয়ারে বসে বিজেপি করছিলেন। তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন কিনা তা এখন আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। সকলের চাকরি বাতিল করতে হবে, এই মানসিকতা অত্যন্ত খারাপ শুধু নয়, যারপরনাই নিন্দনীয়।
প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু রায় ঘোষণা নয়, সে সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর সব পর্যবেক্ষণও ছিল চোখা চোখা ও তীক্ষ্ণ। যা রাজনৈতিক ভাবে বারবার বিড়ম্বনায় ফেলেছিল সরকারকে। শুধু এজলাসে বসে নয়, বাইরে সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েও তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নানারকম সমালোচনা করতেন সরকারের বিরুদ্ধে।
পরে সেই বিচারপতিকে দেখা যায়, লোকসভা ভোটের আগে হঠাৎ চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবারের একটি সূত্র তখন দাবি করেছিল যে, অভিজিৎ বিচারপতি থাকাকালীন সঙ্ঘের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের আগে যেন তিনি সঙ্ঘের সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু অভিজিতের নজর ছিল সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এদিন হাইকোর্টের রায় শুধু তৃণমূলকে স্বস্তি দিয়েছে তা নয়, অভিজিৎকে সামনে রেখে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগও করে দিয়েছে। ক্রমশ তা স্পষ্ট হবে বাংলার রাজনীতিতে।