দীর্ঘ আইনি যুদ্ধে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা যেন আচমকাই উবে গেল। জীবিকার অনিশ্চয়তা যেখানে প্রতিটা দিনকে ধোঁয়াটে করছিল, সেখানে এই রায় কার্যত জীবন ফিরিয়ে দিল বহু পরিবারকে। আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু শিক্ষক বলেন—
“এ রায় কেবল চাকরি রক্ষার নয়, সম্মানের রায়ও।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক শিক্ষকের (primary teachers) ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল— দীর্ঘ দেড় বছরের অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা এবং সমাজের সামনে বারবার জবাবদিহির চাপ। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ সেই বোঝা এক লহমায় নামিয়ে দিল বহু পরিবারের কাঁধ থেকে।
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমারের বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ (verdict, Primary TET) করে দেওয়ার পরই উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় আদালত চত্বর।
সকাল থেকেই বাস-ট্রেন চেপে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজির হয়েছিলেন ৩২ হাজারের প্রতিনিধিরা। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বহু শিক্ষকই বলছিলেন— “আজ একটা নতুন সূর্যোদয় হবে, এমন আশা নিয়ে এসেছি।” দুপুর গড়িয়ে রায়দানের পর যখন জানা গেল চাকরি বহাল, তখনই কান্না, আলিঙ্গন, উচ্ছ্বাসে মেশা স্বস্তির ঢেউ।
অনেকেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন। কারও মুখে গর্ব, কারও চোখে অনিদ্রার মতো ক্লান্তি মিলেমিশে এক হালকা হাসি। এক শিক্ষিকা বলেন, “এতদিন অপমান সইলাম। মনে হতো আমরা যেন অপরাধী! আজ আদালত বলল, আমরা যোগ্য। আজ আমরা কলঙ্কমুক্ত।”
অন্য এক শিক্ষক আবার বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সামনে দাঁড়াতে লজ্জা লাগত। কেউ কিছু না বললেও মনে হতো কটু দৃষ্টি তাকিয়ে আছে। আজ মাথা উঁচু করে স্কুলে ফিরব।”
দীর্ঘ আইনি যুদ্ধে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা যেন আচমকাই উবে গেল। জীবিকার অনিশ্চয়তা যেখানে প্রতিটা দিনকে ধোঁয়াটে করছিল, সেখানে এই রায় কার্যত জীবন ফিরিয়ে দিল বহু পরিবারকে। আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু শিক্ষক বলেন—
“এ রায় কেবল চাকরি রক্ষার নয়, সম্মানের রায়ও।”
হাইকোর্টের এই রায় যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলা রাজনৈতিক উত্তাপেও নতুন অধ্যায় যোগ করল, তা বলাই বাহুল্য।
বিস্তারিত আসছে...