সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে এসআইআর স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অপরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়া রাজ্যের মানুষ এবং সরকারি আধিকারিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল
শেষ আপডেট: 22 November 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে (West Bengal) ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন (ECI) নাকি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে খুশি করতেই অস্বাভাবিক তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসআইআর-এর চাপেই একের পর এক সাধারণ মানুষ, এমনকি বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার কমিশনকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলল রাজ্যের শাসক দল।
শনিবার সিইও দফতরে (CEO Office) এসআইআর নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে তৃণমূল (TMC)। প্রথম থেকেই তাঁরা যে অভিযোগ তুলে আসছে, সেটাই আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে আজ। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas), চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik)-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি (Deputation) জমা দেয়। সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে ক্ষোভ উগরে দেন নেতারা।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে (ECI) চিঠি দিয়ে এসআইআর স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অপরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়া রাজ্যের মানুষ এবং সরকারি আধিকারিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দু-তিন বছরের কাজ ২-৩ মাসে শেষ করতে বলা হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যে একাধিক মৃত্যু এবং আত্মহত্যার ঘটনাও এসআইআরের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে তৃণমূল।
এই প্রসঙ্গেই শনিবার সিইও দফতরে অরূপের অভিযোগ, “দুই বছরের কাজ দু’মাসে সেরে ফেলতে বলে কমিশন আসলে কারও সুবিধা করে দিচ্ছে। প্রত্যেক বুথে ১৫০-২০০ ভোটারের (Voters) নাম ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে গোটা প্রক্রিয়াই ভুলে ভর্তি। এই গাফিলতিতেই সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।”
একধাপ এগিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এও দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশনের তথ্যে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিএলও-দের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে বিএলও অ্যাপে সমস্যা, তথ্যে ভুল, অ্যাপ ক্র্যাশ করছে, এগুলো মানা যায় না।” তাঁর আশঙ্কা, প্রতি ৫ জনের মধ্যে অন্তত ৪ জন বিএলও-রই নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না হওয়া পর্যন্ত ডেডলাইন স্থগিত রাখা হোক - এমন দাবি ফের করেছেন তাঁরা।
তৃণমূল নেতৃত্বের আরও দাবি, বিডিওদের (BDO) যথাযথ প্রশিক্ষণ না দিয়েই এসআইআর (SIR) চালু করা হয়েছে। ফলে বুথস্তরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সেই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাই একের পর এক মৃত্যুর পথ খুলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ শাসক দলের।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে (Krishanagar) ঘটে গিয়েছে আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবার সূত্রে দাবি, সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আত্মঘাতী হন বিএলও রিঙ্কু তরফদার (৫৪)। পেশায় পার্শ্বশিক্ষক রিঙ্কু চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পড়াতেন এবং চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তৃণমূলের দাবি, এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপেই এ নিয়ে রাজ্যে তিন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের সাফ বার্তা - এই পরিস্থিতি অবিলম্বে সংশোধন করা না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ হবে।