পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।”
_0.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ফের আত্মহত্যা এক বিএলও-র (Suicide note , BLO in Krishnanagar)। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন রিঙ্কু তরফদার (৫৩)।
পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে কর্মরত এই মহিলাকে সম্প্রতি বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিবার সূত্রে খবর, কম্পিউটারে তেমন দক্ষ না হওয়ায় শুরু থেকেই তিনি গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। ক্রমবর্ধমান প্রশাসনিক চাহিদা, কাজের টার্গেট পূরণের চাপ এবং কোনও ভুল হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আতঙ্ক—সব মিলিয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রিঙ্কু দেবী। শেষ পর্যন্ত বাড়ির এক ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।” পরিবারের দাবি, কয়েক দিন ধরেই রিঙ্কু দেবী দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারতেন না, ফোনে ক্রমাগত কাজের চাপ, সময়সীমা—সবকিছুতে যেন দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তাঁদের কথায়, “ও তো পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন। কম্পিউটার হাতে কাজ করার অভ্যেস নেই। তবু জোর করে এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হল। চাপ সামলাতে পারেননি। তাই এই চরম সিদ্ধান্ত।”
রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর কাজ ঘিরে যেভাবে তল্পি-তাড়া শুরু হয়েছে, তার চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে ব্লকের স্তরের কর্মীদের ওপর। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিশেষ সমীক্ষা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিশাল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ফর্ম পূরণ, যাচাইকরণসহ বহু কাজ করতে হয় বিএলওদের।
এসআইআর কাজের চাপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বৃহস্পতিবারই দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ২০০২ সালে এই একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২ বছর সময় লেগেছিল, সেখানে এবারে মাত্র ২ মাসের মধ্যে তা শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হচ্ছে, অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর ভাষায়, “দুই দিক থেকেই বিপদ—কাজে ভুল হলে শাস্তির ভয়, আর তাড়াহুড়োর কারণে ভোটার বাদ পড়লে মানুষের ক্ষোভ। এই আতঙ্ক আর চাপে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে।”
রাজ্য সরকারি কর্মী মহল বলছে, শুধুমাত্র নদিয়ায় নয়, বিভিন্ন জেলাতেই বিএলও-রা ক্রমাগত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। অনেক জায়গায় স্বাস্থ্য সমস্যা, রাতভর কাজ, ডিজিটাল এন্ট্রি, সার্ভার সমস্যা—এসব নিয়েই নাজেহাল অবস্থা। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু কোনও সরকারি কর্মীর প্রাণের চেয়ে বড় নয়।”
প্রসঙ্গত, বিএলও-দের চাপের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বলেছিলেন, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, ফলে চাপ তো একটু আছেই। কিন্তু পাশের রাজ্য বিহারেও তো এসআইআর হয়েছে। আমরা পারব না, এমন নয়।” তিনি আরও জানান, বুথে সর্বোচ্চ ভোটারসংখ্যা ১২০০ হলেও অধিকাংশ বুথেই গড় ভোটারসংখ্যা প্রায় ৮০০। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে।