গবেষকদের দাবি, এই বিরল উদ্ভিদই নয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দরজা খুলে দিতে পারে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাচীন লোককথায় ‘বিশল্যকরণী’ (vishalyakarani in the jungles) মানেই মরণব্যাধিকে পালাতে বাধ্য করা অলৌকিক পাতা। এবার সেই ধারণাই যেন নতুন মাত্রা পেল বাস্তবের জগতে। মেঘালয়ের ঘন জঙ্গলে হদিস মিলেছে এমন এক লুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের, যার পাতা নাকি সারিয়ে তুলতে পারে একাধিক দুরারোগ্য ব্যাধি (Potential to cure cancer-malaria) — এমনকি কোলন ক্যানসার পর্যন্ত!
নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল সম্প্রতি এই যুগান্তকারী তথ্য সামনে এনেছেন। গত অক্টোবরে তাঁদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল Chemistry and Biodiversity-এ। খবর প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড়।
উদ্ভিদটির বিজ্ঞানসম্মত নাম Goniothalamus simonii। নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রির সহকারী অধ্যাপক ডঃ ময়ূর এম ফুকানের নেতৃত্বে গবেষণা এগিয়েছে, এবং সামনের পর্বে যৌথ গবেষণার জন্য ইতিমধ্যেই অসমের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে দলটি। গবেষকদের দাবি, এই বিরল উদ্ভিদই নয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দরজা খুলে দিতে পারে।
গবেষকদের জানানো তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয়ের প্রাচীন উপজাতিরা বহু প্রজন্ম ধরে নানান ধরনের রোগ সারাতে এই পাতা ব্যবহার করে আসছেন — পেটে গ্যাস বা গ্যাস্ট্রো সমস্যায়, টাইফয়েডে, ম্যালেরিয়ায়, প্রচণ্ড গলা ব্যথায়—পাতা বেটে বা ফুটিয়ে খেলে নাকি দ্রুত সেরে ওঠেন আক্রান্তরা। যদিও রোগ শনাক্তের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উপজাতিদের ছিল না, গবেষণা চলাকালীন তাঁদের উপসর্গ বিশ্লেষণে মিলেছে সঠিক মিল।
কিন্তু সবচেয়ে চমকে দেওয়ার বিষয় এসেছে পরীক্ষাগারে। স্যামসন রোজলি সাংমা নামে গবেষণা দলের এক সদস্য জানিয়েছেন—এই উদ্ভিদে আছে এমন অণু, যা কোলন ক্যানসারের বংশবিস্তার রোধী (anti-proliferative) উপাদান হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কোলন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সক্ষম এই পদার্থ।
তবে গবেষকদের সাফ বক্তব্য—আধুনিক চিকিৎসায় রূপ দিতে হলে এখনই জনগণের হাতে পাতা তুলে দেওয়া যাবে না। সঠিক মাত্রা, সঠিক রাসায়নিক গঠন এবং প্রয়োগ—সবটিই প্রমাণ করতে হবে ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে। সেই প্রক্রিয়া শুরু করার তোড়জোড় ইতিমধ্যেই চলছে এবং খুব দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
বিশ্ব জুড়ে যখন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও রুদ্ধশ্বাস, তখন জঙ্গলের নির্জন বুক থেকে উঠে আসা এই ‘লুপ্তপ্রায় পাতার’ হদিস চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেন নতুন আলো দেখাচ্ছে।