রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা বদলেছে, সাম্রাজ্য উঠেছে-নামছে, বিদেশি আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে দেশ, তবু ভারতের ঐতিহাসিক পরিচয় অটুট, মনে করান ভাগবত।

মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 22 November 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্তিত্বের লড়াই, সংঘাত, রাজনৈতিক পালাবদল - সব অস্থিরতার পরও ভারত (India) টিকে আছে এক প্রাচীন সভ্যতার প্রতিনিধিত্বে। মণিপুর (Manipur) সফরের দ্বিতীয় দিনে জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে সেই ধারাবাহিকতাকেই নতুন করে তুলে ধরলেন আরএসএস প্রধান (RSS Chief) মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, ভারত কোনও আধুনিক রাষ্ট্রগঠনের ধারণা নয়, বরং এমন এক সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু, যার শক্তি নিহিত সমাজের সাংস্কৃতিক বিন্যাসে।
ভাগবত বলেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে ইউনান, মিশর, রোম - বহু শক্তিশালী রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি লুপ্ত হয়েছে। কিন্তু ভারত (India) এখনও প্রাণবন্ত, কারণ সমাজের ভিত গড়ে উঠেছে চেতনাগত ঐক্যের উপর। তাঁর দাবি, রামায়ণ, মহাভারত, কালিদাস - বহু সাহিত্যেই ‘ভারতবর্ষ’-এর পরিচয় স্পষ্ট, যা আজও বহমান। তাঁর বক্তব্য, সমাজ কাঠামোর এই ধারাবাহিক অস্তিত্বই ‘হিন্দু সম্প্রদায়’-এর টিকে থাকার মেরুদণ্ড। ভাগবতের দাবি, “হিন্দুদের (Hindus) অস্তিত্ব না থাকলে পৃথিবীরই অস্তিত্ব থাকবে না। ভারত হল অমর সভ্যতা।”
রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা বদলেছে, সাম্রাজ্য উঠেছে-নামছে, বিদেশি আক্রমণের (Forgien Attack) মুখোমুখি হয়েছে দেশ, তবু ভারতের ঐতিহাসিক পরিচয় অটুট, মনে করান ভাগবত। “কখনও এক শাসক, কখনও বহু রাজ্য, কখনও স্বাধীনতা, কখনও দখল - সবই এসেছে। কিন্তু দেশ ছিল এক,” মন্তব্য তাঁর।
ইম্ফলে (Imphal) স্থানীয় জনজাতি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও একই সুরে সম্প্রীতির ডাক দেন আরএসএস প্রধান (RSS Chief)। তাঁর বক্তব্য, সঙ্ঘ কোনও রাজনৈতিক শক্তি নয়, কারও কণ্ঠনিয়ন্ত্রণও করে না। বরং বন্ধুত্ব, স্নেহ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক সংযোগই সংগঠনের মূল ভিত্তি। তাঁর মতে, ঐক্য মানে সকলকে একই রূপে গড়া নয় - বৈচিত্র্যই ভারতের প্রকৃত শক্তি।
আরএসএসকে ‘মানুষ গড়ার আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, সংঘ কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে শাখায় যাওয়া প্রয়োজন। সমাজের উন্নতির লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, এমন যে কেউ-ই আসলে অঘোষিত ‘স্বয়ংসেবক’, মত তাঁর।
ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ শুরু হলেও, সংঘের তরফে দাবি, এটি সম্পূর্ণ সামাজিক বার্তা, যার উদ্দেশ্য শান্তি, সংহতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করা। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ২০ নভেম্বর ভাগবতের মণিপুর সফর শুরু হয়েছে। শিল্পোদ্যোগী, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন জনজাতি সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া মেতেই-কুকি সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০-র বেশি মানুষ। ঘরছাড়া হয়েছেন কয়েক হাজার। দীর্ঘ বিতর্কের পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মণিপুর সফর করেন। তার ঠিক পরেই সংঘ প্রধানের রাজ্য সফর রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণেও নজর কাড়ছে।