ধৃতদের মোবাইল ফোন, ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশ চক্রের আর কোন সদস্য যুক্ত আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে (Delhi) আন্তর্জাতিক বেআইনি অস্ত্রচক্রের (Weapon Gang) হদিশ মিলল। রাজধানীর পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তানের (Pakistan) গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) সঙ্গে যুক্ত এই সংঘবদ্ধ চক্র চিন (China) ও তুরস্কে (Turkey) তৈরি আধুনিক পিস্তল ভারতে পাচার করত। সেই অস্ত্র পরে পৌঁছে যেত দিল্লি-সহ আশপাশের রাজ্যের বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে।
পুলিশ চারজন মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার (Four Persons Arrested) করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০টি বিদেশি উন্নতমানের পিস্তল এবং ৯২ রাউন্ড গুলি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অস্ত্রগুলি পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করত। তবে কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল এবং মোট কত অস্ত্র বিক্রি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতদের মোবাইল ফোন (Phone), ব্যাঙ্ক লেনদেন (Bank Transaction) ও সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশ চক্রের আর কোন সদস্য যুক্ত আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
গত সোমবার দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Blast Incident) ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ওই বিস্ফোরণের জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরক তৈরিতে ২,৯০০ কেজির মতো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল—যা আগেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (JK Police) জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ জড়িত এক হোয়াইট-কলার মডিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করেছিল।
পুলিশের দাবি, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসা ও সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক - দুটিই একই বৃহত্তর সন্ত্রাসচক্রের অংশ হতে পারে। তবে সেই যোগসূত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তদন্ত জারি আছে।
এদিকে দিল্লি কাণ্ডে পাকড়াও হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত মুজাম্মিল শাকিল জেরায় স্বীকার করেছেন - ২০২৩ সাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলার পরিকল্পনা (Across the Country) চলছিল। সেই লক্ষ্যেই বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, রিমোট ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহে লেগে ছিলেন তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, মুজাম্মিলের দায়িত্ব ছিল ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ রাসায়নিক মিশ্রণে এই সার মারাত্মক বিস্ফোরকে পরিণত হতে পারে। মুজাম্মিল নাকি গুরুগ্রাম ও নুহ থেকে ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সারে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। ওই সার গুঁড়ো করার জন্য যে ময়দা পেষাই কল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও খুঁজে পেয়েছে এনআইএ।
চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অর্থের (Money) উৎস নিয়েও। কোনও বিদেশি তহবিল (Forgien Fund) নয় - এই মডিউল নিজেদের মধ্যেই ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিল। মুজাম্মিল দিয়েছে ৫ লক্ষ, উমর ২ লক্ষ। আদিল রাদার ৮ লক্ষ, মু্জাফ্ফর রাদার ৬ লক্ষ এবং লখনউয়ের শাহিন সইদ দিয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। সেই অর্থেই বিস্ফোরক, সার, অস্ত্র - সব কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ভয়ঙ্করভাবে সংগঠিত ও আর্থিকভাবে সক্ষম ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংযোগও। মুজাম্মিল, আদিল ও মু্জাফ্ফর নাকি ওকাসা নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে তুরস্ক (Turkey) পর্যন্ত গিয়েছিল। ওকাসার যোগ রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে। পরিকল্পনা ছিল আফগানিস্তানে ঢোকার, তবে সপ্তাহখানেক অপেক্ষার পর হ্যান্ডলার পিছিয়ে যায়।