তদন্তে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংযোগও। মুজাম্মিল, আদিল ও মু্জাফ্ফর নাকি ওকাসা নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে তুরস্ক পর্যন্ত গিয়েছিল। ওকাসার যোগ রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে।

ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল
শেষ আপডেট: 22 November 2025 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বিস্ফোরণ (Delhi Blast) কেবল একদিনের ঘটনা নয়! তদন্তে আপাতত যা উঠে এসেছে তাতে প্রমাণ মিলেছে এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। এনআইএ (NIA) সূত্রের দাবি, জইশ-সমর্থিত 'হোয়াইট কলার মডিউল' (White Collar Module) অন্তত ২ বছর ধরে বহু ভারতীয় শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রই ধীরে ধীরে সামনে এনে দিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই মডিউলের মূল মুখ হিসেবে উঠে এসেছে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) সঙ্গে যুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিলের (Dr. Muzammil Shakeel) নাম। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিনি। জেরায় শাকিল স্বীকার করেছেন - ২০২৩ সাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলার পরিকল্পনা (Across the Country) চলছিল। সেই লক্ষ্যেই বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, রিমোট ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহে লেগে ছিলেন তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, মুজাম্মিলের দায়িত্ব ছিল ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ রাসায়নিক মিশ্রণে এই সার মারাত্মক বিস্ফোরকে পরিণত হতে পারে। মুজাম্মিল নাকি গুরুগ্রাম ও নুহ থেকে ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সারে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। ওই সার গুঁড়ো করার জন্য যে ময়দা পেষাই কল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও খুঁজে পেয়েছে এনআইএ।
অন্যদিকে উমর দায়িত্ব নিয়েছিল সার থেকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় উপাদান জোগাড় করার। বিস্ফোরণেও সে-ই আত্মঘাতী হামলাকারী বলে দাবি তদন্তকারীদের।
চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অর্থের (Money) উৎস নিয়েও। কোনও বিদেশি তহবিল (Forgien Fund) নয় - এই মডিউল নিজেদের মধ্যেই ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিল। মুজাম্মিল দিয়েছে ৫ লক্ষ, উমর ২ লক্ষ। আদিল রাদার ৮ লক্ষ, মু্জাফ্ফর রাদার ৬ লক্ষ এবং লখনউয়ের শাহিন সইদ দিয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। সেই অর্থেই বিস্ফোরক, সার, অস্ত্র - সব কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ভয়ঙ্করভাবে সংগঠিত ও আর্থিকভাবে সক্ষম ছিল।
শাকিল আরও স্বীকার করেছে, ৬.৫ লক্ষ টাকায় একটি একে–৪৭ রাইফেল (AK-47) কেনা হয়েছিল, যা পরে আদিল রাদারের লকার থেকে উদ্ধার হয়। এনআইএ সূত্র দাবি করছে, এই মডিউলের হ্যান্ডলাররা হল মুনসুর এবং হাশিম - যারা আবার ‘ইব্রাহিম’ নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে কাজ করত।
এখানেই শেষ নয়। তদন্তে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংযোগও। মুজাম্মিল, আদিল ও মু্জাফ্ফর নাকি ওকাসা নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে তুরস্ক (Turkey) পর্যন্ত গিয়েছিল। ওকাসার যোগ রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে। পরিকল্পনা ছিল আফগানিস্তানে ঢোকার, তবে সপ্তাহখানেক অপেক্ষার পর হ্যান্ডলার পিছিয়ে যায়। ওকাসার সঙ্গে যোগাযোগ হতো টেলিগ্রামের মাধ্যমে, জিজ্ঞাসাবাদের পর তা বন্ধ হয়ে যায়।
এখন উমর ছাড়া বাকিরা এনআইএ হেফাজতে। তদন্তকারীদের ধারণা, যদি বিস্ফোরক আগেভাগে ধরা না পড়ত, তবে একাধিক ভারতীয় শহর ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে পারত।