এনআইএ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি কেনা থেকে প্রস্তুত করা— সবকিছুতেই ছিল আর এক সন্দেভাজন আমির রশিদ আলির সক্রিয় অংশগ্রহণ।
.jpeg.webp)
দিল্লি বিস্ফোরণ
শেষ আপডেট: 16 November 2025 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ যে আত্মঘাতী হামলা ছিল, তা নিশ্চিত করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। তদন্তে উঠে এসেছে— একটি গাড়িবাহিত আইইডি (Vehicle-Borne IED) ব্যবহার করেছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন নবি। এই হামলায় প্রাণ যায় ১৩ জনের, জখম হন ৩০-রও বেশি মানুষ।
এনআইএ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি কেনা থেকে প্রস্তুত করা— সবকিছুতেই ছিল আর এক সন্দেভাজন আমির রশিদ আলির সক্রিয় অংশগ্রহণ। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার সাম্বুরার বাসিন্দা আমিরকে গ্রেফতার করেছে তদন্ত সংস্থা। গাড়িটি আমিরের নামেই নথিভুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, গাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে আমির দিল্লিও এসেছিল।
ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে মৃত চালকের পরিচয়— তিনি উমর উন নবি, ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের সহকারী প্রফেসর। তাঁর আর এক গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে এনআইএ, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জঙ্গি-অর্থায়ন চক্রের সন্দেহে রবিবার নুহর হায়াত কলোনি থেকে আরও দু’জনকে আটক করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ধৃতদের নাম রিজওয়ান এবং শোয়েব। তদন্তকারীদের অনুমান, উমরের ঘনিষ্ঠ মহল— ডা: মুজাম্মিল ও ডা: শাহিনকে নিয়ে গ্রুপটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।
তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর বয়ান নিয়েছে এনআইএ—যার মধ্যে আহতরাও আছেন। দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে চলছে তদন্ত। বিস্ফোরণের বৃহত্তর চক্রান্ত, পরিকল্পনাকারী এবং অর্থায়নকারীদের খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।
গত পাঁচ দিন ধরে দিল্লি পুলিশ তন্নতন্ন করে খুঁজছে নুহের হিদায়ত কলোনি-সহ একাধিক এলাকায়। শনিবার সেখানেই মোতায়েন ছিল তদন্তকারী দল। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রায় ১০ দিন ওই কলোনির ভাড়া বাড়িতে থাকত উমর। ১০ নভেম্বর বিস্ফোরণের দিন আই-২০ গাড়ি নিয়ে সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই বেরোয় সে।
নুহর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে গাড়িটি ওই কলোনিতে ঢুকছে। তবে কবে বেরিয়েছে, কোন পথে গেছে, তা এখনও জানা যায়নি।
দিল্লি-আলওয়ার রোডের যে বাড়িতে ছিল উমর, তা সোয়েব নামের এক যুবকের বৌদির। সোয়েব আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিশিয়ান, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই কাজ করত বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহভাজনরা। সোয়েবই নাকি থাকার ব্যবস্থা করেছিল। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে। এলাকার কাউকে কিছু টের পেতে দেয়নি উমরের উপস্থিতি, জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।