মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ নজরদারি অভিযানে (Red Fort blast aftermath) ৩৪টি পরিত্যক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ (unattended vehicles seized)। পাশাপাশি ৫ ঘণ্টা ধরে চালানো চেকিংয়ে দিল্লি পুলিশ অ্যাক্টে ৪১৭টি চালান কাটা হয়েছে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Red Fort Blast) ১৩ জনের মৃত্যুর পর ফের হাই অ্যালার্ট সমগ্র দিল্লিজুড়ে। সম্প্রতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে- পরিত্যক্ত যানবাহন চেকিং, সন্দেহভাজনদের যাচাই, ব্যস্ত এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন-সহ একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই- যাতে কোনওভাবেই সন্ত্রাসবাদী বা অসামাজিক কোনও গোষ্ঠী সুযোগ নিতে না পারে।
সূত্রে খবর, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ নজরদারি অভিযানে (Red Fort blast aftermath) ৩৪টি পরিত্যক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ (unattended vehicles seized)। পাশাপাশি ৫ ঘণ্টা ধরে চালানো চেকিংয়ে দিল্লি পুলিশ অ্যাক্টে ৪১৭টি চালান কাটা হয়েছে। এই অভিযান হঠাৎ করেই চালানো হয়, যাতে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখ এড়িয়ে না যায়।
কেন্দ্রীয় রেঞ্জের জয়েন্ট কমিশনার মধুর বর্মার নেতৃত্বে জেলা ডিসিপি (DCP), এসিপি (ACP), এসএইচও (SHO) এবং বিশেষ ইউনিটগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক চলছে। বাজার কমিটি, দোকানদার, RWA, ব্যবসায়ী- সব পক্ষকে যুক্ত করা হচ্ছে নিরাপত্তার পরিকল্পনায়। পুলিশের মতে, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এমন কঠোর নজরদারি সফল করা প্রায় অসম্ভব।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর ব্যস্ত বাজার, ধর্মীয় স্থান, পর্যটন কেন্দ্র, মেট্রো স্টেশন, মল, সিনেমাহল- যে সব জায়গায় জনসমাগম বেশি, সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মক ড্রিল, সারপ্রাইজ অভিযান এবং এলাকা ভিত্তিক পেট্রলিং চলছে, যাতে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এছাড়াও হোটেল, গেস্ট হাউস, সাইবার ক্যাফে, রাসায়নিক দোকান, সিমকার্ড বিক্রেতা, বাণিজ্যিক এলাকা—সব জায়গায় খুঁটিনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ভাড়াটিয়া, শ্রমিক, গৃহকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের তথ্যও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি ছদ্মবেশে না ঢুকে পড়ে।
শনিবার সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পুরো জেলায় কড়া পিকেট চেকিং চলে। ৬৮৩টি গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা করা হয়, ২৪ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ বারবার জনসাধারণকে সতর্ক করছে- রাস্তায় কোনও সন্দেহজনক ব্যাগ, গাড়ি বা মানুষ দেখলে অবিলম্বে জানাতে। টহলদারি দলের মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা, সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এই সমন্বিত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখা ও সম্ভাব্য কোনও হামলা আগেভাগে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। রাজধানীকে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে তাই টানা নজরদারি বহাল থাকবে।