দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ডাঃ প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

শেষ আপডেট: 16 November 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর থেকে দিল্লি - এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা ‘হোয়াইট-কলার’ সন্ত্রাস মডিউল (white-collar terror module)! সেই সূত্রেই এবার হরিয়ানার এক মহিলা চিকিৎসককে (Haryana doctor detained Kashmir) আটক করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (Jammu and Kashmir Police)। দক্ষিণ কাশ্মীরের (South Kashmir) অনন্তনাগে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে (Anantnag Government Medical College doctor) কর্মরত ডাঃ প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
শনিবার মালাকনাগ এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স শাখা। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি সিম কার্ড, যেগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর জবানবন্দি থেকেই উঠে এল চিকিৎসকের নাম
তদন্তকারীরা জানান, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন কর্মী আদিল জেরার মুখে এমন কিছু তথ্য সামনে আসে, যা ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ এবং ‘ফান্ডিং’-এর জোগানদাতাদের দিকে সন্দেহ ঘনীভূত করে। ফোনের কল রেকর্ড ধরেই পৌঁছে যায় তদন্তকারীরা ডাঃ শর্মার ঠিকানায়।
হরিয়ানা থেকেও একটি বিশেষ দল অনন্তনাগে পৌঁছে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
কাশ্মীরের সূত্রে উত্তরপ্রদেশেও বড়সড় নজরদারি
আদিলের জবানবন্দি এবং ফোন ট্রেইল ধরে এবার তদন্তের জাল ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। সেখানে প্রায় ২০০ জন কাশ্মীরি-উৎপত্তির চিকিৎসক ও মেডিক্যাল ছাত্রকে নজরে রাখা হয়েছে। কানপুর, লখনউ, মীরাট, সাহারানপুর-সহ রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এন্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ তদন্তের সঙ্গেও জুড়ে যাচ্ছে সুতো
এদিকে দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাতেও নতুন অগ্রগতি। শুক্রবার রাতে ধারাবাহিক অভিযানে ধৌজ ও নুহ-সহ হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দু’জন হরিয়ানার আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইউজিসি ও ন্যাক-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে এনক্রাইম ব্রাঞ্চ দুটি পৃথক এফআইআরও দায়ের করেছে। দিল্লির ওখলার ক্যাম্পাসেও পৌঁছে গিয়েছিল তদন্তকারী দল।
গ্রেফতার ডাক্তারদের সঙ্গে বিস্ফোরণকারী উমরের যোগাযোগ
ধৃত দুই চিকিৎসক, মহম্মদ ও মুস্তাকিম, উমর নবির পরিচিত। উমরই সেই হুন্ডাই i20 গাড়ির চালক, যা বিস্ফোরিত হয়েছিল লালকেল্লার কাছে। দু’জনই নাকি নিয়মিত যোগাযোগ করতেন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া ডাঃ মুজাম্মিল গণাইয়ের সঙ্গে, যিনি ‘হোয়াইট-কলার’ মডিউল মামলায় প্রথম সারির সন্দেহভাজন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই দুই চিকিৎসকের একজন বিস্ফোরণের দিনই দিল্লিতে AIIMS-এর একটি ইন্টারভিউতে এসেছিলেন।
সার্জিক্যাল ফার্টিলাইজার-চক্র? তদন্তে নতুন সন্দেহভাজন
হরিয়ানায় আরও একজন, দীনেশ ওরফে ডাব্বুকে আটক করেছে তদন্তকারীরা। অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে সার বিক্রি করতেন। পুলিশ অনুমান করছে, মডিউলের সদস্যরা মোট ২৬ লক্ষ টাকা জোগাড় করে তার মধ্যে ৩ লক্ষ ব্যয় করেছিল এনপিকে ফার্টিলাইজার কেনার জন্য। দীনেশই কি সেই সরবরাহকারী? তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
উমরের গতিবিধি - চায়ের দোকান থেকে পার্কিং লট - খতিয়ে দেখা হচ্ছে
ওয়াজিরপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার একটি চায়ের দোকানে বিস্ফোরণের আগে উমরকে দেখা গিয়েছিল বলে সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। সেই জায়গা থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন ভিজিটর তালিকা, গাড়ির নম্বর, এক্সিট-এন্ট্রি রেকর্ড।
সুনেহরি মসজিদের পার্কিং লটে বিস্ফোরণকারী গাড়িটি প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময়ে ঢোকা–বেরনো প্রত্যেকটি গাড়ি চিহ্নিত করে যাচাই করা হচ্ছে।
ফরিদাবাদ জুড়ে তল্লাশি অভিযান
ফরিদাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৪০টি মসজিদ, ১,৭০০ ভাড়াটে, ৪০টি সার–বীজের দোকান, ২০০টি গেস্টহাউস এবং ৫০০-র বেশি কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত বাসিন্দাকে চেক করেছে। পুরো জেলার ওপরেই বাড়তি নজরদারি চলছে।
এনআইএ-র হাতে তদন্ত
দিল্লি পুলিশের দায়ের করা প্রাথমিক ইউএপি এফআইআর এখন হস্তান্তর করা হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-কে। গোটা মডিউলের বিস্তৃত চক্র, অর্থের উৎস, কারা কোন ভূমিকায় ছিল - সবই এখন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কড়া নজরে।