তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল্ডিং নম্বর ১৭-এর ওই ছেলেদের হোস্টেলের ঘর ছিল জঙ্গি মডিউলের মিটিং পয়েন্ট।

এই ঘরে বসেই হামলার ছক কষেছিলেন ডাক্তাররা
শেষ আপডেট: 13 November 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) হোস্টেলের একেবারে সাদামাটা, স্যাঁতসেঁতে ঘর নম্বর ১৩। দেখতে যতই সাধারণ হোক, তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘরটিই ছিল দেশের রাজধানী দিল্লি (Delhi) ও উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) একাধিক জঙ্গি হামলার গোপন আস্তানা। এখান থেকেই ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করছিলেন একদল তরুণ চিকিৎসক— যাঁরা এখন পুলিশের জালে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল্ডিং নম্বর ১৭-এর ওই ছেলেদের হোস্টেলের ঘর ছিল জঙ্গি মডিউলের মিটিং পয়েন্ট। এখানেই নাকি তৈরি হচ্ছিল হামলার নকশা, দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দেওয়া হচ্ছিল।
এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর হাসপাতাল ইতিমধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ, দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবারের বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত ডা: উমর নবি এখানেই কর্মরত ছিলেন। ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এর আগের দিনই আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়েরই আর এক চিকিৎসক ডা: মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া করা বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ। তিনিও এই মডিউলের সদস্য বলে সন্দেহ।
শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক কর্মী ডা: শাহিন শাহিদ–এর নামও উঠে এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, তিনি ভারতে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর মহিলাদের শাখা গঠনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
সবমিলিয়ে, একের পর এক গ্রেফতার এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয় এখন সন্ত্রাসবাদ তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষা ও চিকিৎসার ছদ্মাবরণে এখানে গড়ে উঠেছিল এক বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি।
এদিকে, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির মহিপালপুরে একটা জোরাল বিস্ফোরণ হয়। র্যাডিসন হোটেলের কাছে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে খবর। সকাল ৯টা ১৮ মিনিট নাগাদ দমকলের কাছে খবর যায়। পুলিশও ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তিন দিন আগেই দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এই বিস্ফোরণের খবরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য় ছড়ায়।
পরে জানা যায়, এক ব্য়ক্তি গুরুগ্রাম যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে র্যাডিসন হোটেলের সামনে জোরাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনও বিস্ফোরণের চিহ্ন পায়নি।
পরে খোঁজ-খবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে একটি বাসের টায়ার ফেটে বিস্ফোরণ হয়েছে। হোটেলের সিকিউরিটি গার্ডও জানান যে ধৌলা কুয়ার দিকে যাচ্ছিল ডিটিসি বাস। সেই বাসের পিছনের দিকে একটি টায়ার ফেটে যায়। সেই শব্দ থেকেই আতঙ্ক ছড়ায়।