তদন্তকারীরা মনে করছেন, কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তি হয়তো ভুয়ো ফোন কল করেছেন। সেই কল কোথা থেকে করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে (New Delhi) ফের বিস্ফোরণের খবর! রাজধানীর মহিপালপুরে র্যাডিসন হোটেলের (Radisson Hotel) কাছে বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণের শব্দে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন এবং দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা ১৮ মিনিট নাগাদ ফোন আসে তাঁদের কাছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, হঠাৎ জোরালো শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনও বিস্ফোরণের চিহ্ন বা ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। বরং পুলিশ জানিয়েছে একটি ডিটিসি বাসের টায়ার ফেটে (DTC Bus Tyre Burst) বিকট আওয়াজ হয়। তাকেই অনেকে বিস্ফোরণ ভেবে ভুল করেছেন।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরণের সূত্র পাওয়া যায়নি। ফলে ‘বিস্ফোরণ’-এর তত্ত্ব খারিজ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তি হয়তো ভুয়ো ফোন কল করেছেন। সেই কল কোথা থেকে করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় এখন সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে সতর্কতা হিসেবে আশপাশের অঞ্চল তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) দু'দিন পরই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঘটনায় মৃত্যুই হয়েছে অন্যতম মূল অভিযুক্ত ড. উমর উন নবির। ওই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ (Suicide Blast) ঘটিয়েছিলেন তিনিই এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নবির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল, ফলে এতদিন পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় (DNA Test) ধরা পড়েছে সবটা।
গত সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লার (Red Fort) বাইরে ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তেই সন্দেহ করা হয়েছিল, বিস্ফোরণ ঘটানো সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়িটি (i20 Car) চালাচ্ছিলেন ড. উমর। তদন্তকারীরা কাশ্মীরের পুলওয়ামায় (Jammu Kashmir Pulwama) তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের সঙ্গে সেই ডিএনএ মিলে যায়।
পুলিশের ধারণা, দীপাবলির সময় ভিড়ভাট্টায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা যায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই মডিউল মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের দুটি গ্রুপের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি পরিচালনা করত পাকিস্তানের JeM হ্যান্ডলার উমর বিন খত্তাব।
এই ঘটনায় আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও অধ্যাপককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ড. শাহিন শাহিদ, যিনি জইশ-ই-মহম্মদের নারী শাখা ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর ভারতীয় ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ।
এছাড়াও দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে চলছে তল্লাশি। জামাত-ই-ইসলামির এক কর্মী মৌলভি ইরফানের গ্রেফতারের পর একাধিক বাড়িতে হানা দেয় নিরাপত্তাবাহিনী।